সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: প্রায় আট বছর ধরে কোমর ও পায়ের অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগছিলেন ইসলামপুরের বাসিন্দা ২৯ বছরের সাবেরা খাতুন। দীর্ঘদিনের এই সমস্যায় তিনি হাঁটাচলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলেন। অবশেষে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আধুনিক এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারির মাধ্যমে সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলেন তিনি। শুক্রবার উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ অম্লানজ্যোতি রায় ও তাঁর দল নতুন পদ্ধতিতে সাবেরার মাইক্রো সার্জারি করেন।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান ডাঃ পার্থসারথী সরকার দাবি করেন, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে এটি প্রথম এন্ডোস্কোপিক স্পাইন সার্জারি। এমনকী উত্তরবঙ্গের কোনো সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালেও আগে এই ধরনের অস্ত্রোপচার হয়নি বলে দাবি চিকিৎসকদের।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ অম্লানজ্যোতি রায় বলেন, এটি মেডিকেল সায়েন্সের অত্যন্ত আধুনিক সংযোজন। আগে কোমর বা ঘাড়ের সমস্যায় ওপেন সার্জারি করতে হত। এখন মাত্র একটি ছোটো ছিদ্র করে ক্যামেরার সাহায্যে মেরুদণ্ডের বিভিন্ন অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিতে রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা যায়। বড়ো কাটাছেঁড়া লাগে না, অপারেশনের পরের দিন থেকেই রোগী হাঁটাচলা করতে পারেন। ওপেন সার্জারির মতো দীর্ঘ বিশ্রাম বা জটিলতার সম্ভাবনাও অনেক কম।
চিকিৎসকদের দাবি, সাবেরার অস্ত্রোপচারের পরই তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যথা অনেকটাই কমে গিয়েছে এবং পরের দিন শনিবার থেকেই তিনি হাঁটাচলা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
অস্ত্রোপচারের পর সাবেরা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পা ও কোমরের যন্ত্রনায় কষ্ট পেয়েছি। সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারতাম না। শুক্রবার অস্ত্রোপচারের পর এতদিনের সেই অসহ্য যন্ত্রণা আর নেই। এখন অনেক ভালো লাগছে। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বাইরে এধরনের অস্ত্রোপচার করতে দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ রয়েছে বলে জানান ডাঃ অম্লানজ্যোতি রায়। সেই অস্ত্রোপচার সাবেরা খাতুন বিনামূল্যে করিয়ে নবজন্ম পেলেন।