Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া শহরে এবারও বাজি বাজার চালু, মিলবে রকমারি গ্রিন ক্র্যাকার্স

গত বছরের মতো এবারও বাঁকুড়া শহরের রবীন্দ্র ভবন চত্বরে বাজি বাজার চালু করছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সেখানে বাজি বিক্রি করতে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা পসরা সাজাতে শুরু করে দিয়েছেন।

বাঁকুড়া শহরে এবারও বাজি বাজার চালু, মিলবে রকমারি গ্রিন ক্র্যাকার্স
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: গত বছরের মতো এবারও বাঁকুড়া শহরের রবীন্দ্র ভবন চত্বরে বাজি বাজার চালু করছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সেখানে বাজি বিক্রি করতে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা পসরা সাজাতে শুরু করে দিয়েছেন। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, গতবারের মতো রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গণে বাজি বাজার হচ্ছে। সদর মহকুমা শাসক ব্যবসায়ী সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এব্যাপারে প্রস্তুতি বৈঠক করেছিলেন। গত বছরের মতো সমসংখ্যক স্টল বাজি বাজারে থাকছে। ওই বাজারে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রি হবে। উল্লেখ্য, গত বছর বাঁকুড়া জেলা পুলিশের তরফে কালীপুজোয় বাজি বিক্রি নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবীন্দ্র ভবনের বাইরে বাঁকুড়া শহরের কোনও দোকানে বাজি বিক্রি করা যাবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। রবীন্দ্র ভবন চত্বরে ‘সবুজ বাজি বাজার’ খোলার কারণেই ওই সিদ্ধান্ত বলে পুলিশ কর্তারা জানিয়ে দেন। পুলিশি নজরদারিতে সেখানে সাতটি স্টলে বাজি বিক্রি শুরু হয়। ফলে শহরের অন্যত্র কেউ বাজি বিক্রি করলে তা বেআইনি বলে গণ্য করা হবে বলে জেলা পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন।

Advertisement

বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, দূষণ সৃষ্টিকারী শব্দবাজি কোনওভাবেই বিক্রি করা যাবে না। পুলিশ এব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজি বিক্রির জন্য ইচ্ছুক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন। আবেদন খতিয়ে দেখে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেওয়া হয়। লাইসেন্সপ্রাপ্তদের রবীন্দ্র ভবন চত্বরে ঘেরা জায়গায় বাজি (গ্রীণ ক্র্যাকার্স) বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার বাইরে শহরের যে কোনও জায়গায় বাজি বিক্রি নজরে পড়লে বা অভিযোগ পেলে পুলিস ব্যবস্থা নেবে। বেআইনিভাবে কেউ তা বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট বাজি আটক ও বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের অন্যান্য জেলার মতো বাঁকুড়াতেও শব্দবাজির দাপট রয়েছে। মহালয়া ও দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে শহর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাজি ফেটেছে। তবে গতবারের তুলনায় তা কিছুটা কম ছিল। দীপাবলিতেও জেলায় বাজি ফাটে। তবে আলোর উৎসবে আতশবাজি বেশি পোড়ানো হয়। আগে দূষণসৃষ্টিকারী আতশবাজি বেশি বিক্রি হতো। মাঝে জাতীয় পরিবেশ আদালত এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশে শব্দ ও মাত্রাতিরিক্ত বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে, এমন বাজি বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তারপর থেকেই জেলায় জেলায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারির আওতায় বাজি বাজার চালু হয়। বেআইনি বাজি মজুত ও বিক্রির বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। গত বছরও পুজোর মরশুমে বাঁকুড়া শহর সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুলিশ বেআইনি বাজি বাজেয়াপ্ত করে। এবারও রেকর্ড পরিমাণ বাজি আটক করা হয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাজি বিক্রি রেয়াত করা হবে না বলে পুলিশ আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ