Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে আরও কড়া হচ্ছে দমকল, চলবে অভিযান

দীঘার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর সৈকত শহরের হোটেলগুলিতে অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে দমকল বিভাগ

হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে  আরও কড়া হচ্ছে দমকল, চলবে অভিযান
  • ১৮ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর সৈকত শহরের হোটেলগুলিতে অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে দমকল বিভাগ। কয়েকদিন আগে ওল্ড দীঘায় চারতলার একটি হোটেলে আগুন লাগে। হোটেলের লিফট মেশিন রুমে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়। দমকল বিভাগ, পুলিস ও স্থানীয় মানুষজনের তৎরপতায় কোনওরকমের রক্ষা পান হোটেলে থাকা ৩০ জন পর্যটক। যদিও ঠিক সময় উদ্ধারকাজ শুরু না করতে পারলে প্রাণহানি হতে পারত। বিরাট ক্ষয়ক্ষতিও এড়ানো গিয়েছে। তবে দমকল বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে, অগ্নিসুরক্ষার জন্য যে সমস্ত পরিকাঠামো থাকার কথা, তার কিছুই নেই হোটেলে। একটা সিঁড়ি রয়েছে। হোটেল থেকে জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার, আর একটি সিঁড়ি অত্যন্ত সরু। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ঠিকঠাক ছিল না। ঘটনার প্রেক্ষিতে রামনগর দমকল বিভাগের আধিকারিক কাশীনাথ রক্ষিত হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে ফায়ার প্রিভেনশন অ্যাক্ট-এ দীঘা কোস্টাল থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিস। জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হওয়ার পর দীঘায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবে হোটেলগুলি পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা। এই পরিস্থিতিতে হোটেলগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দপ্তর। উল্লেখ্য, দীঘায় দেড় হাজারের বেশি হোটেল ও লজ রয়েছে। তবে জরুরি অবস্থায় হোটেল থেকে বেরনোর কোনও আলাদা পথ বা দরজা বেশিরভাগ হোটেলে নেই। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র বহু হোটেলে বিকল। অনেক জায়গায় হোটেলগুলি কার্যত গা ঘেঁসাঘেঁসি করে তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে আগুন লাগলে এবং দমকল কর্মীদের কাজ করতে এবং বিপন্ন মানুষজনকে বের করে আনতে খুবই সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন,  অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং অন্যান্য পরিকাঠামো রয়েছে কি না, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হয়। দমকলের সঙ্গে আমরা সবসময় সমন্বয় রেখে চলি। তবে এই ঘটনার পর আমরা সব হোটেল মালিককে বলেছি, হোটেলগুলিতে আলাদা সিঁড়ি তৈরি করতে হবে। সেরকম কিছু ঘটনা ঘটলে আবাসিকরা সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসতে পারবেন। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, দমকল বিভাগকে প্রতিটি হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আমরা এব্যাপারে নিয়মিত তদারকি করব। দমকলের ডিভিশনাল ফায়ার ম্যানেজার বামকুমার চৌধুরী বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে তৈরি রিপোর্টে হোটেলের আগুন মোকাবিলা ব্যবস্থায় কী কী গাফিলতি রয়েছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। হোটেলগুলির অগ্নিসুরক্ষা নিয়ে নিয়মিত অভিযান চলে। তবে এনিয়ে আরও কড়া হচ্ছে দপ্তর। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ