Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সোনার বদলে আগ্নেয়াস্ত্র! বিহার গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ

সোনার বদলে বিহার থেকে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র। নয়া কায়দায় পাচারকারীরা কারবার শুরু করেছে। তারা মূলত সোনার বাঁট, বিস্কুট এবং ‘ইট’ নিয়ে যাচ্ছে।

সোনার বদলে আগ্নেয়াস্ত্র! বিহার গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সোনার বদলে বিহার থেকে ঢুকছে আগ্নেয়াস্ত্র। নয়া কায়দায় পাচারকারীরা কারবার শুরু করেছে। তারা মূলত সোনার বাঁট, বিস্কুট এবং ‘ইট’ নিয়ে যাচ্ছে। পরে সেগুলি গলিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে মুনাফা লুটছে। হাওয়ালার মাধ্যমেও জোরদার কারবার চলছে। গোয়েন্দারা এমনটাই জানতে পেরেছেন। কয়েকদিন আগে ভাগলপুর-কলকাতাগামী একটি বাস থেকে ৭২ লক্ষ টাকা সহ চারজনকে পুলিশ পাকড়াও করে। তারা জেরায় দাবি করেছে, সোনা কেনার জন্যই কলকাতায় টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগেও তারা নগদ টাকা নিয়ে গিয়েছে। কোনও বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। চোরাই সোনা কেনার জন্যই তারা কলকাতায় যাচ্ছিল। বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডিও খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। রাজ্যের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও পুলিশের কাছে ইনপুট নিয়েছে।

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের মুঙ্গের, ভাগলপুর, বাঁকা সহ বিভিন্ন জেলায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানা রয়েছে। মুঙ্গেরে অস্ত্রের কারখানা বহুদিন ধরেই রয়েছে। সেখান থেকে এরাজ্যের দুষ্কৃতীরা অস্ত্র নিয়ে আসে। তারা সেভেন এমএম, নাইন এমএমের মতো পিস্তল উত্তর ২৪পরগনা, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়। দুবাই থেকে বাংলাদেশ হয়ে স্মাগলাররা এরাজ্যে সোনা নিয়ে আসে। বিহারে সোনার বাট পাঠিয়ে তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে বলে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। এই কাজে বিহারগামী বাসগুলিকে পাচারকারীরা ব্যবহার করছে। আসানসোল, বর্ধমান হয়েই বাসগুলি কলকাতায় যায়। পুলিশ বিহারের বাসগুলির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বাস দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাসের চালক এবং খালাসিদের একাংশের সঙ্গেও স্মাগলারদের যোগাযোগ রয়েছে। পালসিট থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজন বাসকর্মী রয়েছে। জেরায় তারা যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, বিহারের দুষ্কৃতীরা সবসময়ই মাথাব্যথার কারণ। এই সময় তারা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে। হাওয়ালার মাধ্যমে তারা বেশি কারবার করছে। সেই রাজ্যের দুষ্কৃতীরাই এরাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ঢোকাচ্ছে। অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠালে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। নগদ নিয়ে যাওয়া আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সেই কারণে তারা হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন করতেই বেশি পছন্দ করে। কয়েকদিন আগে পাচারকারীরা অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়ার কারণেই বাসে টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। তাদের সহজেই পাকড়াও করা হয়। তবে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন হলে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় সোনার পরিবর্তে তারা আগ্নেয়াস্ত্র পাঠাচ্ছে। বিহারের বিভিন্ন দোকানে চোরাই সোনা গলিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে বিক্রি হচ্ছে। পালসিট থেকে ধৃতরা জেরায় একথা স্বীকার করেছে। তারা বহুদিন ধরেই এই কারবার করছে। বিহার থেকে রাজ্যে আগ্নেয়াস্ত্র যাতে ঢুকতে না পারে, তার জন্য একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি বাড়িয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ