নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, বুধবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি চারতলা ভবনে থাকা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। তদন্তে দেখা যায় ফায়ার সেফটি, পুলিশের অনুমতিপত্র কিছুই হোটেলটির ছিল না। ঘটনার পর অকুস্থলে যান, দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। পরে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তীও। মৃতদের পরিবারের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী। লালবাজার এই ঘটনার তদন্তে সিটও গঠন করেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দমকলের ডিজি অনুজ শর্মার থেকে রিপোর্টও চেয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।
এরপরই আজ দুপুরে বিষয়টি নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন, বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। শহরে অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বিগত সরকারের অবহেলার এক করুণ নিদর্শন। বহু বছর ধরে শহর তথা রাজ্যের পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম-নীতি, নিয়ন্ত্রণই ছিল না। বাধ্যতামূলক অগ্নিনির্বাপক সুরক্ষা বিধি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেই হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং তা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যে পূ্ববর্তী প্রশাসন সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ভাবেই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল। তাঁরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত পরিদর্শন বা ফায়ার অডিট কার্যকর করেনি। পাশাপাশি এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিকে তারা বাড়তে দিয়েছিল। যে সুরক্ষা মানদণ্ডগুলি আদতে থাকা উচিত ছিল তা বাস্তবে কার্যকর করতে বর্তমানে আমরা কাজ করে চলেছি। পাশাপাশি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের যথাযথ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। জানান, তদন্ত স্বার্থে ৫ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে।