Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফায়ার এক্সটিংগুইশারের মেয়াদ ফুরিয়েছে এক বছর আগে, ভ্রুক্ষেপ নেই জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের

২০২৪ সালের পয়লা অক্টোবর মেয়াদ ফুরিয়েছে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের।

ফায়ার এক্সটিংগুইশারের মেয়াদ ফুরিয়েছে এক বছর আগে, ভ্রুক্ষেপ নেই জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: ২০২৪ সালের পয়লা অক্টোবর মেয়াদ ফুরিয়েছে ফায়ার এক্সটিংগুইশারের। এরপর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সদর হাসপাতালে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রিফিল করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালে কোনওরকম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কী হবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement

অভিযোগ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলি শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দেওয়ালে ঝোলানো রয়েছে। সেগুলি রিফিল করার ব্যাপারে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের আদৌও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দ্রুত যাতে মেয়াদ ফুরনো ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলি রিফিল করা হয়, সেব্যাপারে মেডিকেলের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকেও আলোচনা হয়। কিন্তু তারপরও এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জায়গায় অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে কেন এমন দায়সারা মনোভাব দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর পরিজনরা।
অবিলম্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলি যে বদলানো প্রয়োজন তা স্বীকার করে নিয়েছেন জলপাইগুড়ি মেডিকেলের রোগী কল্যাণ সমিতির অন্যতম সদস্য তথা তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। তিনি বলেন, রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তারপরও কেন এখনও মেয়াদ ফুরনো ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলি বদলানো হয়নি, নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে খোঁজ নেব। জলপাইগুড়ি মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ বলেন, অতীতে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রিফিল করার কাজ ঠিকমতো হয়নি। সেকারণে আমরা চাই, পূর্তদপ্তর (সিভিল) এবার ওই কাজ করুক। এনিয়ে আমরা স্বাস্থ্যভবনে চিঠি দিয়েছিলাম। সেখান থেকে অনুমোদন মিলেছে। শীঘ্রই ফায়ার এক্সটিংগুইশার রিফিলের কাজ হবে।
জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে এবং করিডরের দেওয়ালে টাঙানো ফায়ার এক্সটিংগুইশার শেষবার রিফিল করা হয়েছিল ২০২৩ সালের পয়লা অক্টোবর। যার মেয়াদ ফুরিয়েছে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর। কিন্তু তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলি রিফিল করা হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে যদি কোনওভাবে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে ওই ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলি কোনও কাজেই আসবে না।
রোগীর পরিজনদের তোপ, জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের সঙ্গেই মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব। সেখানে প্রচুর প্রসূতি ও শিশু ভর্তি থাকে। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ফায়ার এক্সটিংগুইশার অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এটা ভাবতেই অবাক লাগছে। রোগীর বাড়ির লোকজনের বক্তব্য, কোনওভাবে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে যাতে প্রাথমিক অবস্থাতেই তার মোকাবিলা করা যায়, সেজন্য ফায়ার এক্সটিংগুইশারের ব্যবস্থা রাখা। কিন্তু সেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এক বছরের বেশি সময় ধরে অকেজো রয়েছে, এটা সত্যিই চিন্তার বিষয়। যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
জলপাইগুড়ি মেডিকেল সূত্রে খবর, এর আগে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে সদর হাসপাতাল ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রিফিল করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গিয়েছে, ঠিকমতো রিফিল হয়নি। অগ্নিনির্বাপক সামগ্রীর পরিবর্তে অন্য কিছু অথবা জল ভরে দেওয়া হয়েছে সিলিন্ডারে। সেসব নিয়ে তদন্ত চলছে। 
• নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ