সংবাদদাতা, সিউড়ি: অত্যধিক বৃষ্টিপাত। তাতেই হয়েছে কাঁচা সবজিতে ক্ষতি। তার জেরেই সিউড়ির বাজারে আনাজের দাম আগুন ছোঁয়া। কিছুদিন আগেও যে সমস্ত সবজির দাম মানুষের আয়ত্তের মধ্যে ছিল। তা এখন বেড়ে প্রায় দেড়গুন তো কোন ক্ষেত্রে দ্বিগুন হয়েছে। তাতেই মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার থেকে জোগানও কিছুটা কম। তার জেরেই দামে প্রভাব পড়ছে।
সিউড়ি শহরের আনাজ বিক্রেতাদের থেকে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে পর্যন্ত যে টমাটো কিলো প্রতি ৬০ টাকা বিক্রি হত। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। একইরকমভাবে ঝিঙে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হত। তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুন দাম হয়েছে। কুমড়ো আগে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি ছিল। তা এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়স কিছুদিন আগে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছিল । তা এখন বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, গত কয়েকদিন আগে নিম্নচাপের জেরে জেলাজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার জেরেই সিউড়ি শহরের বাজারগুলিতে কাঁচা সবজির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তাতেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে ক্রেতা বিক্রেতাদের।
বিক্রেতারা জানান, আগে ক্রেতারা বাজারে এলে ১০০ টাকায় ব্যাগ ভর্তি বাজার করে নিয়ে যেত। কিন্তু এখন ১০০ টাকা সেই অর্থে বাজারই হয় না। এছাড়া বাজারে জিনিসের দাম বাড়লেও মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ তো বাড়েনি। ফলে, বিকিকিনিও কমে গিয়েছে। আগে কোন ক্রেতা যদি এক কেজি সামগ্রী কিনতেন। তিনি এখন আর্ধেক সামগ্রী কিনছেন। বিক্রেতাদের কথায়, যে হারে দাম বেড়েছে তাতে বিকিকিনি কমে গিয়েছে। এছাড়া লাভের পরিমাণও কমে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের আয় কমে যাচ্ছে। এই নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক সংলগ্ন বাজারের আনাজ বিক্রেতা আব্দুল হালিম, সেখ করিম বলেন, কিছুদিন ধরে বাজারের দর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ক্রেতাদের চরম সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদেরও বিকিকিনি কমে গিয়েছে। ওই বাজারে আসা চাষি তাপস পাল বলেন, বৃষ্টিপাতের জেরে আমাদের চাষে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই কাঁচা সবজির দাম বেড়েছে। এখন মাসখানেক দাম অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে এক ক্রেতা কৌশিক দাস বলেন, বাজারে জিনিসে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। কাঁচা সবজির আকাশছোঁয়া দাম। এতে আমাদের মত মধ্যবিত্তের সমস্যা হচ্ছে।