Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিনহাটার চৌধুরীহাটে অগ্নিকাণ্ড ভস্মীভূত গোডাউন, বাড়ি, দোকান, বিকল দমকলের ইঞ্জিন, হাত লাগাল বিএসএফ

মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ দিনহাটা-২ ব্লকের চৌধুরীহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

দিনহাটার চৌধুরীহাটে অগ্নিকাণ্ড ভস্মীভূত গোডাউন, বাড়ি, দোকান, বিকল দমকলের ইঞ্জিন, হাত লাগাল বিএসএফ
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দিনহাটা: মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ দিনহাটা-২ ব্লকের চৌধুরীহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভস্মীভূত হয়ে যায় একটি মুদির গোডাউন, সংলগ্ন একটি বাড়ি এবং দু’টি দোকান। আগুন নেভাতে তৎপর হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে আসে বিএসএফ এবং দমকল। তবে, দমকল কর্মীদের দেরিতে পৌঁছনো ও একটি ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। 

Advertisement

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট নাগাদ চৌধুরীহাট বাজার চৌপথির কাছে থাকা একটি মুদির গোডাউনে প্রথমে আগুনের ফুলকি দেখা যায়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা আগুন নেভাতে এগিয়ে আসেন। খবর যায় চৌধুরীহাট বিএসএফ ক্যাম্পে। বিএসএফের ১৩৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি কোম্পানির জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। তাঁরা ক্যাম্পের সবক’টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে এসে কাজ শুরু করেন। এতে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। 
এরপর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিনহাটা দমকল কেন্দ্রের দু’টি ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও একটি ইঞ্জিনের মোটর বিকল হয়ে যায়। দমকল কর্মীদের কিছুটা দেরিতে আসা এবং ইঞ্জিনের ত্রুটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোডাউনের পাশে থাকা সুকলি সাহার বাড়ি এবং সংলগ্ন দু’টি দোকান। সুকলি অভিযোগ করেন, বহুবার গোডাউন মালিক রঞ্জিত সাহাকে বিদ্যুতের তার পরিবর্তনের কথা বলেছিলাম, তিনি কথা শোনেননি। গোডাউন পরিষ্কার করা হয় না। শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। আমার বাড়ির সব আসবাবপত্র পুড়ে গিয়েছে। আলমারিতে থাকা সোনা, কাপড় কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। এর ক্ষতিপূরণ চাই। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দুই ব্যবসায়ীও প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। 
অন্যদিকে, গোডাউন মালিক রঞ্জিত সাহা বলেন, আগুন গোডাউন থেকে নয়, গোডাউনের পিছনের বাড়ি থেকে লেগেছে। ভোর চারটে থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না, শর্ট সার্কিট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। 
দমকল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে দিনহাটা দমকল কেন্দ্রের স্টেশন অফিসার বিনয়কুমার বর্মন বলেন, আমাদের কাছে ফোন আসা এবং ইঞ্জিন কখন গিয়েছে তার রেকর্ড রয়েছে। রাস্তার সমস্যার কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে। ইঞ্জিনের মোটর খারাপ হওয়া টেকনিক্যাল সমস্যা। 
খবর পেয়ে সাহেবগঞ্জ থানা, নয়ারহাট ফাঁড়ির পুলিস, দিনহাটা মহকুমা পুলিস আধিকারিক ধীমান মিত্র ও দিনহাটা-২ এর বিডিও নীতিশ তামাং ঘটনাস্থলে চলে আসেন। দমকলের প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিট হলেও, স্টেশন অফিসারের বক্তব্য, বিস্তারিত অনুসন্ধান ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ