নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এখনও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি কাজকর্ম শুরুর আগেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাধের সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মীয়মাণ কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট (সিসিএস) বিল্ডিংয়ে। শনিবার সকালের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দমকলের ১৫টি ইঞ্জিনকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।
আগামী দিনে এই কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়েই একাধিক মন্ত্রকের কার্যালয় স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করার ভাবনা রয়েছে মোদি সরকারের। দিল্লির শাস্ত্রী ভবন, কৃষি ভবন, শ্রমশক্তি ভবনের মতো একাধিক সরকারি বিল্ডিং থেকে মন্ত্রকগুলির কাজকর্ম এই সিসিএসে নিয়ে আসার পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, বিদেশ মন্ত্রকের কাজকর্মও আগামীতে এখান থেকেই পরিচালিত হওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নয়াদিল্লির জনপথ রোডে এই কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি ভবনে পরিণত হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্ট সব মহলে প্রশ্ন উঠছে, যে ভবনে একাধিক মন্ত্রকের কার্যালয় স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে মোদি সরকারের, তৈরি হতে থাকা সেই বিল্ডিং নিয়েই কেন এমন দায়সারা মনোভাব? প্রসঙ্গত, এই সিসিএস বিল্ডিংয়ের অদূরেই ইন্ডিয়া গেট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের কার্যালয়। শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় সাধারণ মানুষকে অগ্নিকাণ্ডের জেরে খুব বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি। সপ্তাহের অন্য কোনও কর্মব্যস্ত দিন হলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, এদিন সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে দপ্তরে এই সংক্রান্ত ফোন আসে। কালবিলম্ব না করেই দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। বেলা ১২টা ২০ নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কেউ হতাহত হয়নি। তবে বেশ কিছু আসবাবপত্র এবং সামগ্রী পুড়ে গিয়েছে। কেন এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শনিবার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ শ্রমিকদের চোখেমুখে তখনও আতঙ্কের রেশ। ভিতরের বিস্তীর্ণ জায়গায় জল থইথই করছে। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, বেশ কিছুক্ষণের জন্য আমাদের কাজ বন্ধ করে দিতে বলা হয়। পরে বেলার দিকে আবার তা শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিসও মোতায়েন রয়েছে।