সংবাদদাতা, মানকর: গাছের পাতা ঝরার মরশুমে আগুনের গ্রাসে এবার আউশগ্রাম জঙ্গলের সোলাগড়। ক্যানেল পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় বুধবার আগুন ধরে যায়। লবণধার গ্রামের পার্শ্ববর্তী এই বনাঞ্চল। এই জঙ্গলে ময়ূরের বাস। স্বাভাবিকভাবেই ময়ূর, খরগোশ-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য বনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। বারবার সচেতনতা মূলক প্রচার চালিয়েও লাভ হচ্ছে না। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বেশ কয়েক জায়গায় আগুন লাগে। সবগুলিই নেভানো হয়েছে। সোলাগড়ের খবর পেতেই সেখানেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জঙ্গলে আগুন লাগানোর প্রবণতা রয়েছে বেশ কিছু মানুষের মধ্যে। কয়েকদিন আগেই আউশগ্রামের আদুরিয়া বিটের মোড়বাঁধ থেকে ১১ মাইল জঙ্গল যাওয়ার রাস্তার দু›দিকে আগুন লেগেছিল। আদুরিয়ার শালকো কালীতলার পিছন থেকে পুরো জঙ্গলেই আগুন ধরে যায়। নিকটবর্তী আকুলিয়া, কালিকাপুরের কাছে একাধিক জায়গায় গাছপালা আগুনে পুড়ে গিয়েছে। আবার সোলাগড়ে জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনায় চিন্তিত পরিবেশপ্রেমীরা। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে আউশগ্রাম সংলগ্ন পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা জঙ্গলমহলের দেউল এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে কয়েকটি ময়ূর ছাড়া হয়েছিল। উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে ময়ূরের বংশবিস্তার ঘটেছে। তারা আশেপাশের জঙ্গলেও ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু যেভাবে জঙ্গলে আগুন লাগছে তাতে ব্যাহত হবে ময়ূরদের জীবনধারা ও বংশবিস্তার। লবণধারের বাসিন্দা মহেশ্বর ঘোষ বলেন, এই জঙ্গলে ময়ূর রয়েছে। অনেক পর্যটক লবণধার আসার সময় রাস্তায় ময়ূর দেখতে পান। সোলাগড়ের জঙ্গলে আগুন লাগায় ময়ূরদের সমস্যা হবে। আগুনের তাপে ময়ূরের ডিম পুড়ে নষ্ট হতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে আদুরিয়া বিটের অফিসার পিনাকি ভট্টাচার্য বলেন, আগুন লাগার খবর পেতেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র



