সংবাদদাতা, দিনহাটা: দোল উৎসবের মাঝে ছন্দপতন দিনহাটায়। শনিবার ভোরে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে খাক শহরের চওড়াহাট বাজারের একাংশ। দোলের রঙের ওপরে এখন জমেছে ছাইয়ের আবরণ। সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত ১৮ জন ব্যবসায়ী। বাজারে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। শীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে বৈঠক করবে নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন ভোরে চওড়াহাট বাজারে কিছু দোকানে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয়রা। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই আগুন অন্য দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়া শুরু করে। খবর পেয়ে দিনহাটা দমকলকেন্দ্রের কর্মীরা বাজারে আসেন। তিনটি দমকলের ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু তার মধ্যেই বাজারে ১৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। শর্টসার্কিটের জেরে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে দমকলের প্রাথমিক অনুমান।
ক্ষতিগ্রস্ত সুপারি ব্যবসায়ী গোপালচন্দ্র সাহা বলেন, দোকানে আড়াই লক্ষ টাকার সুপারি মজুত ছিল। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। দিনহাটা মহাকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রানা গোস্বামী বলেন, ভোরে বিরাট অগ্নিকাণ্ড হয়। তাতে ১৮টি দোকান পুড়ে গিয়েছে। দেড় কোটি টাকারও বেশি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। চওড়াহাট বাজারের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রশাসনের কাছে বারবার দ্বারস্ত হয়েও কিছু লাভ হয়নি। রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি বাজারের উন্নয়নে কোনও কাজই করছে না। এই অভিযোগের পাল্টা কোচবিহার জেলা রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির সম্পাদক সাব্বির আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসা হবে। সেই আলোচনার পরই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ করব। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের পাশে রয়েছি। তাদের আর্থিক সহায়তা করা হবে। নিজস্ব চিত্র।