নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের লোধা-শবরদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে আঙুলের ছাপ উঠছে না। এসআইআর পর্বের পর এবার আধার সংযোগ নিয়ে জেলার লোধা-শবররা উদ্বেগে পড়েছেন। জেলা প্রশাসনের তরফে শিবির করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে চোখের রেটিনা স্ক্যানের মাধ্যমে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের এসডিও অনিন্দিতা রায়চৌধুরী বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নাম নথিভুক্ত করতে লোধা-শবরদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য, জেলার লোধা-শবরদের কাস্ট সার্টিফিকেট প্রদান করা। তাঁরা আধার সংযোগ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মতো সুবিধা পাবেন।
ঝাড়গ্রামের অধিকাংশ লোধা-শবর আদিম জনজাতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। জেলার আটটি ব্লকে ২৩ হাজার লোধা-শবর বসবাস করেন। জঙ্গল থেকে শালপাতা, শুকনো ডালপালা, কন্দ সংগ্ৰহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রশাসনের তরফে এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কৃষিকাজ, পশুপালন ও হস্তশিল্পে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর এই উদ্যোগে জেলার লোধা ও শবররা ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছেন। এই প্রচেষ্টা অবশ্য জেলার লোধা-শবরদের কাছে কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এসআইআর পর্বে বিএলও এবং বিএলএরা লোধা-শবর পাড়ায় হাজির হন। ইনিউমারেশন ফর্মপূরণের জন্য কাগজপত্র চাওয়া হয়। লোধা-শবরদের সেই কাগজপত্র জোগাড় করতে গিয়ে নাজেহাল হতে হয়েছে। এখন কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য বিশেষ ক্যাম্প করা হচ্ছে। প্রতিদিনের দিনমজুরির কাজ বন্ধ রেখে তাঁরা শিবিরে ছুটছেন। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে অনেকের আঙুলের ছাপ উঠছে না। যার জেরে আধার সংযোগ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামলাতে বায়োমেট্রিক শিবির করে নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, লোধা-শবরদের জন্য দেড় মাস ধরে কাস্ট সার্টিফিকেট প্রদানের কাজ চলছে। অনেকক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, লোধা-শবরদের আঙুলের ছাপ উঠছে না। বিশেষত মধ্যবয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। শিবির করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে চোখের মণির ছবি তুলে কাজটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের সুকনিবাসা গ্ৰামের বাসিন্দা লক্ষ্মী শবর বলেন, ফর্ম ফিলআপ করতে গিয়ে আমাদের নানা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। ক্যাম্পে যেতে হচ্ছে। কাগজপত্র জোগাড় করতে বলা হচ্ছে। এত কাগজপত্র আমরা কোথায় পাব? অপর বাসিন্দা দীনচরণ শবর বলেন, গ্ৰামে অফিসাররা আসছেন। ফর্মপূরণ ঠিকভাবে হয়নি বলে নানা প্রশ্ন করছেন। এখন আবার শুনছি চোখের ছবি তোলা হবে। নাহলে আধার কার্ড হবে না। সরকারি সুযোগ সুবিধা পাব না। আমরা এইসবে হয়রান হয়ে যাচ্ছি। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, এই এলাকার লোধা-শবরদের কাছে কাস্ট সার্টিফিকেট বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নেই। প্রশাসনের তরফে বায়োমেট্রিক শিবির করে নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ প্রয়োজনীয় ছিল।