Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

আর্থিক স্বাধীনতা জরুরি, মননে গেঁথে দিয়েছেন মা

সন্তানের কাছে মাতৃঋণ আজীবনের। নিজের মাকে নিয়ে কতই না গল্প জড়িয়ে আছে জীবনের নানা বাঁকে। কিন্তু মায়েদের কথা আলাদা করে বলা হয় কই?

আর্থিক স্বাধীনতা জরুরি, মননে গেঁথে দিয়েছেন মা
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্তানের কাছে মাতৃঋণ আজীবনের। নিজের মাকে নিয়ে কতই না গল্প জড়িয়ে আছে জীবনের নানা বাঁকে। কিন্তু মায়েদের কথা আলাদা করে বলা হয় কই? দেবীপক্ষ থেকে শুরু হল এই নতুন বিভাগ। বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা লিখবেন তাঁদের মায়ের কথা।

Advertisement

কোয়েল মল্লিক

• কোলটিস। মা আদর করে এই নামেই আমাকে ডাকেন। মা আমার শক্তি, আবেগ। পৃথিবীতে যত বড় ঝড় আসুক, মা সবসময় পাশে থাকবেন। আসলে মানুষের গড়ে ওঠা অনেকটাই নির্ভর করে মা কীভাবে সন্তানকে বড় করছেন তার উপর। বাবারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাইরে ব্যস্ত থাকেন। ফলে মায়েদের সঙ্গে সন্তান বেশি সময় কাটায়। আমার মা একটা সময় শিক্ষিকা ছিলেন। তবু আমার বড় হওয়ার প্রতিটা মুহূর্ত মাকে পাশে পেয়েছি। জীবনে যখনই কোনও পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হয়েছে, সবথেকে মূল্যবান পরামর্শ মায়ের কাছেই পেয়েছি। মা আমাকে যৌথ পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত রেখেছেন সবসময়। সেটা আমার সন্তানদেরও শেখানোর চেষ্টা করি। মনে আছে, হয়তো কোনও শ্যুটিংয়ে যাচ্ছি, মা ফোন করে মনে করিয়ে দিলেন, ‘শোন, অমুকের জন্মদিন। একটা ফোন করিস।’ অথবা ‘ওর গৃহপ্রবেশ, একবার শুভেচ্ছা জানাস।’ এইসব দিনগুলো তো সেই আত্মীয়দের কাছে স্পেশাল। আমি ভুলে গেলেও মা ঠিক মনে করিয়ে দেন। কারও শরীর খারাপ হলে খোঁজ নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেন। জীবন যে শুধু নিজের জন্য বেঁচে থাকা নয়, এটা ছোট থেকে মা শিখিয়েছেন। সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। অনেকের দেখভাল করতে হবে, এটাও মায়ের শিক্ষা। কাজে ব্যস্ত বলে জীবন থেকে বাকি সবকিছু হারিয়ে যাবে, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে না, এমনটা হবে না। পরিবারের সদস্যদের প্রতিও যে দায়িত্ব রয়েছে, ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে মা শিখিয়েছেন। 
আমাদের যৌথ পরিবার। কোনও অনুষ্ঠানে মা গিয়েছেন, যেখানে সব ঠাকুরমা, পিসিমা, কাকিমা থাকবেন। আমাকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন। সেখানে আমার বয়সি তো কেউ নেই, ফলে আমি কেন যাব— এমন  প্রশ্ন করতে মা বলেছেন, পরিবারের সকলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। বাচ্চারা সমবয়সিদের সঙ্গে থাকতে ভালোবাসে। কিন্তু এটা মায়ের শিক্ষা সব পরিবেশে মানিয়ে নিতে হবে। এটাই জীবনের মূল্যবোধ, আদর্শ। আমার বাবাও খুব পারিবারিক মানুষ। সকাল ন’টার মধ্যে শ্যুটিংয়ে বেরিয়ে যেতেন। সন্ধেবেলা চলে আসতেন বাড়ি। রবিবার শ্যুটিং রাখতেন না। সেসময় ৩৬৫দিন বাবা ব্যস্ত থাকতেন। এমন কোনও বাংলা ছবি হয়নি তখন যেখানে বাবা নেই। কিন্তু রবিবার ছুটি নিতেন। বাকি বেশিরভাগ সময়টা বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকতাম। দায়িত্ববোধ শিখেছি মায়ের থেকে। মা বোঝাতেন বাবা কত কষ্ট করে উপার্জন করে আনছেন। কোনও কিছুই যে সহজ নয়, বোঝাতেন মা। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আর্থিক স্বাধীনতা জরুরি, এটা আমার মননে মা গেঁথে দিয়েছেন ছোট থেকেই। কখনও থিয়েটার দেখাতে নিয়ে গিয়েছেন। কখনও বা মিউজিয়ামে গিয়েছি মায়ের সঙ্গেই। পাঁচ বছর বয়সে ওড়িশিতে ভর্তি করে দেন মা। সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে পরিচয় মায়ের হাত ধরেই। 
তবে মায়ের ব্যক্তিত্ব বদলে গিয়েছে দিদিমা হওয়ার পর। আমি কিন্তু মাকে খুব বেশি আদুরে দেখিনি। বরং কড়া শাসনে বড় হয়েছি। আদর দিতেন বাবা। আমার ছেলে কবীর হওয়ার পর দিদিমার ভূমিকায় এসে মা ভুলে গিয়েছেন, আমাকে কত শাসন করতেন। আমি কবীরকে চোখ রাঙালে উল্টে মা আমাকে বকেন। 
নাতির একটা বিষয়ে মা খুব খুশি।  মা ভালো আঁকেন। কবীরও খুব ভালো আঁকে। ও হয়তো এই গুণটা আমার মায়ের থেকেই পেয়েছে। আমার জীবনে সবথেকে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের সাহায্যই পেয়েছি সবার আগে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ