নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গাড়িতে চড়তেই অভ্যস্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য নিমাইচন্দ্র সাহা। বুধবার তিনি গাড়ি ছেড়ে টোটোয় চড়ে বর্ধমানের সিআইডি অফিসে এলেন। টোটোর সিটে বসে থাকা অবস্থাতেই হাতে ধরে রাখলেন ছাতা। সংবাদমাধ্যম যাতে তাঁর ছবি ক্যমেরাবন্দি করতে না পারে তারজন্য অফিসে ঢোকার সময়ও তাঁর হাতে ছিল কালো ছাতা। সকাল ১০টার সময় সিআইডি অফিসে ঢুকে তিনি বেরলেন দুপুর ২টো ১৫মিনিট নাগাদ। ঢোকা এবং বেরনোর সময় তাঁর মুখ থেকে শোনা যায় দু’টি শব্দ, ‘নো কমেন্ট’। সিআইডি অফিসে হাজিরা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী। সিআইডি অফিস থেকে বেরনোর পর তিনি তড়িঘড়ি রওনা দেন গন্তব্যের উদ্দেশে।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অফিসে ঢোকায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন প্রাক্তন উপাচার্য। ডিএসপি পদমর্যাদার এক অফিসার আসার পর তাঁকে ১৮-২০টি প্রশ্ন করা হয়। সব প্রশ্নেরই উত্তর তিনি নিজের মতো করে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি কথা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টগুলিতে কত টাকা রয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি অবগত ছিলেন কি না তা জানতে চাওয়া হয়। টাকা উধাও হওয়ার পর বিষয়টি তাঁকে কেউ কিছু জানিয়েছিল কি না, তা জিজ্ঞাসা করা হয়। বেশকিছু নথিও তাঁকে দেখানো হয়। সেই নথি দেখিয়ে কিছু বিষয়ে তাঁর ব্যাখা চাওয়া হয়।
সিআইডি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনকে জেরা করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে আরও এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে ডাকা হবে। অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক কর্মী সিআইডির নজরে রয়েছেন। তিনি কয়েক মাস ধরে ফেরার রয়েছেন। টাকা তছরুপ কাণ্ডে তিনি অন্যতম মাস্টারমাইন্ড বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে কেন তাঁকে এতদিন গ্রেপ্তার করা গেল না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে জেরা করলে অনেক বিষয় পরিষ্কার হয়ে যেত। আর এক উচ্চপদস্থ প্রাক্তন আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর অবসর সংক্রান্ত সমস্ত সুবিধা আটকে দেওয়া হয়েছে। সিআইডি এখনও তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়নি।
সিআইডি ১৬টি অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করেছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা পাঠানো হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই অ্যাকাউন্ট মালিকদের গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু রাঘব বোয়ালরা অধরা থেকে গিয়েছে।
সিআইডির এক আধিকারিক বলেন, তদন্তের প্রয়োজনে প্রাক্তন ভিসিকে আবার ডাকা হতে পারে। সেটা তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে তিনি সম্মতি দিয়েছেন। আপাতত তদন্তে তিনি সহযোগিতা করছেন। কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েকজনের বয়ান রেকর্ড করা হবে। ব্যাঙ্কের সঙ্গেও প্রয়োজনে কথা বলা হবে। এই দুর্নীতির শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়েছে। অর্থ সংক্রান্ত এই ধরনের কেসের রহস্য উন্মোচন করতে সময় লাগে। তবে দোষীরা সাজা পাবে। অনেক তথ্য পাওয়া গিয়েছে।