Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

শাস্তির পরিপূরক হতে পারে না আর্থিক ক্ষতিপূরণ: সুপ্রিম কোর্ট

অপরাধীদের প্রতি অকারণে সহানুভূতি দেখাবেন না। আর্থিক ক্ষতিপূরণ কখনোই শাস্তির পরিপূরক হতে পারে না।

শাস্তির পরিপূরক হতে পারে না আর্থিক ক্ষতিপূরণ: সুপ্রিম কোর্ট
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: অপরাধীদের প্রতি অকারণে সহানুভূতি দেখাবেন না। আর্থিক ক্ষতিপূরণ কখনোই শাস্তির পরিপূরক হতে পারে না। এক মামলার শুনানিতে বিভিন্ন আদালতকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চে খুনের চেষ্টার অভিযুক্তদের সাজা কমানো সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। সেখানে দোষীসাব্যস্তের বিরুদ্ধে শাস্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় মাথায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, অপরাধের মাত্রা ও শাস্তির তুল্যমূল্য বিচার, মামলার সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ, অপরাধটি সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে, ঘটনায় কতটা উত্তেজনা ছড়াতে পারে—এইসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, আদালতগুলিতে শাস্তি কমানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি বিপজ্জনক। এতে অপরাধীদের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছচ্ছে। বিচারপতির স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ওই ব্যক্তি যাতে আর সংশ্লিষ্ট অপরাধ না করে তা নিশ্চিত করতে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। যাতে সকলে বুঝতে পারে, সমাজের নিয়ম ভাঙলে কী পরিণতি হতে পারে। কিন্তু, আর্থিক ক্ষতিপূরণ শাস্তির পরিপূরক হতে পারে না। 

Advertisement


আদালত সূত্রে খবর, ২০০৯ সালে এক ব্যক্তির উপর ছুরি ও লাঠি দিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে দুই দুষ্কৃতীর উপর। মারধরে শরীরের একাধিক স্থানে আঘাত লাগে ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। দায়রা আদালত অভিযুক্তদের খুনের চেষ্টার ধারায় দোষীসাব্যস্ত করে এবং তিন বছরের জেলের সাজা দেয়। হাইকোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান অভিযুক্তরা। তাতে আদালত জানায়, ঘটনার পর ১০ বছর কেটে গিয়েছে। ইতিমধ্যে অন্য দৃষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছেন আক্রান্ত। তাই অভিযুক্তদের শাস্তি কমানোর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। যদিও ওই রায় নিয়ে কার্যত ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, হাইকোর্টের রায় প্রতিষ্ঠিত ফৌজদারি আইনের পরিপন্থী। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, হামলার জেরে প্রাণ চলে যেতে পারত। এধরনের ক্ষেত্রে কেন শাস্তি কমানো হল, তা নিয়ে হাইকোর্ট যথাযথ কারণ দেখাতে পারেনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ