নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ২০১৭ সালে জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ঝাড়গ্রাম। রাজ্য সরকারের তরফে সেই বছরই শহরের জল সরবরাহে ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। লালগড়ের বৈতা থেকে পাইপ লাইন বসানোর কাজ সম্পূর্ণ। রাধানগরে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলছে পাইপ লাইন বসানোর কাজ। কংসাবতী নদীর জল প্ল্যান্ট থেকে পরিস্রুত হয়ে এবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে।
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, আদিবাসী অধ্যুষিত জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়। জেলা ঘোষণার পরেই শহরে জলের সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। জল সরবরাহের বৃহৎ প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলা যেতে পারে। পুরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে এবার খুব দ্রুত পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে যাবে।
ঝাড়গ্ৰাম জেলা হওয়ার পর শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। সেইসঙ্গে শহর এলাকায় পানীয় জলের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। জেলার ভূগর্ভস্থ জলস্তর নামা নিয়ে এক দশক আগে সতর্কবার্তা ছিল। সেই জলেও সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি আয়রন ছিল। জেলার বাসিন্দাদের পরিস্রুত জল সরবরাহ করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। বিনপুর-১ব্লক নয়াগ্ৰাম ও সাঁকরাইল ব্লকে আয়রন এলিমিনেশন প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হয়। ঝাড়গ্রাম ব্লকের তিনটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে সাতটি আয়রন প্ল্যান্ট গড়ার কাজ চলছে। ঝাড়গ্ৰাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় উচ্চতার গড় তারতম্য ৫০-১০০ ফুট। ঝাড়গ্রাম শহরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের ভূমি গাঙ্গেয় ও সুবর্ণরেখা নদী উপত্যকা দ্বারা দু’ভাগে বিভক্ত। উঁচু-নিচু ভূমির জেরে শহরের টাইম কলগুলিতে জল মিলত না। কংসাবতী নদী থেকে আনা জল সেই সমস্যা মেটাতে চলেছে। বিনপুর-১ব্লকের বৈতা থেকে শহর পর্যন্ত জলের পাইপ লাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। জল পরিশোধন কেন্দ্রের কাজও শেষ হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইন বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। পুরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডে জল সরবরাহের কাজ পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে ১-৭ নম্বর ওয়ার্ডে জল সরবরাহ করা হবে। ঝাড়গ্রাম পুরসভার এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ শেষ হয়েছে। শহরের ২১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুত শহরের ১৮টি ওয়ার্ডে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। শহরের নতুনডিহি এলাকার বাসিন্দা পার্থ দাস বলেন, বাড়িতে সাব-মার্সিবল রয়েছে। তবু দূরের ট্যাপ কল থেকে পানীয় জল বয়ে আনতে হয়। অনেক সময় জল কিনে খেতে হয়। ভূগর্ভস্থ জলে অত্যধিক মাত্রায় আয়রন রয়েছে। জামাকাপড়ে কাচলে লালচে ছোপ ধরে যায়। ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। এখন আমরা পুরসভার জল সরবরাহের অপেক্ষায় আছি।
পুরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শিউলি সিংহ বলেন, তৃণমূল ২০১৩ সালের পুরভোটে শহরের জল সমস্যার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শহরবাসী কবে জল পাবেন, বিরোধীপক্ষ তা নিয়ে কটাক্ষ করেছিল। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।