Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফিল্মের সংকট, ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক্স-রে পরিষেবা পাচ্ছেন না বহু রোগী

রয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত ফিল্ম। অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চলছে এক্স-রে ফিল্মের সংকট।

ফিল্মের সংকট, ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক্স-রে পরিষেবা পাচ্ছেন না বহু রোগী
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: রয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত ফিল্ম। অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চলছে এক্স-রে ফিল্মের সংকট। ফলে এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গিয়েছে এক্স-রে পরিষেবা। প্রায় এক মাস ধরে এই সঙ্কটের জেরে ভোগান্তির পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালে ভর্তি থাকা ইন্ডোরের কিছু জরুরি রোগীদের জন্য পরিষেবা সচল রাখা হলেও এক্স-রে হচ্ছে না হাসপাতালের বহির্বিভাগের সাধারণ রোগীদের। ফলে সরকারি হাসপাতালে এসেও বাইরের ল্যাবে গ্যাটের কড়ি খরচ করে এক্স-রে করাতে হচ্ছে তাঁদের। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ডোমকল মহকুমার একমাত্র সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এটি। ডোমকল মহকুমার প্রতিটি ব্লক থেকে প্রতিদিন শয়ে শয়ে রোগী ভিড় করেন হাসপাতালে। শুধু ডোমকলই নয়, নদীয়ার একাংশের রোগীরাও চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে এসে থাকেন। বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য ভরসা ওই হাসপাতাল। প্রতিদিন ওইসব এলাকার প্রচুর রোগী চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে ভিড় করেন। তাঁদের স্বাস্থ্য পরিষেবার কথা মাথায় রেখে হাসপাতালে এক্স-রে পরিষেবা চালু করা হয়েছিল। হাসপাতালের ইন্ডোরের পাশপাশি আউটডোরের প্রেসক্রাইব করা রোগীদেরও এক্স-রে পরিষেবা দেওয়া হতো। কিন্তু পুজোর আগেই শুরু হয় এক্স-রে ফিল্মের ঘাটতি। পর্যাপ্ত ফিল্ম না থাকায় এক্স-রে পরিষেবার ক্ষেত্রেও কাটছাঁট করতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। ফিল্ম সংকটের কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে হাসপাতালের আউটডোরের রোগীদের এক্স-রে পরিষেবা। পাশপাশি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র জরুরি রোগীদেরই এক্স-রে এর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে এসেছে হাসপাতালের এক্স-রে পরিষেবা। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০জন রোগী এক্স-রে করাতেন। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০-এর আশপাশে। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে পরিষেবা। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে এক্স-রে লিখে দিলেও তা করানো যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই এখন হাসপাতালের সামনের বেসরকারি ল্যাবগুলিতে যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানকার খরচ অনেক বেশি, রিপোর্টের মান নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ফলে একদিকে সরকারি হাসপাতালে সঙ্কট, অন্যদিকে বেসরকারি ল্যাবের অতিরিক্ত খরচ — দুইয়ের মাঝে পড়েছেন এক্স-রে করাতে আসা সাধারণ রোগীরা। 
তবে, শুধু আউটডোরেরই নয় হাসপাতালের ইমারজেন্সির চিকিৎসক লিখে দিলেও অনেক সময় এক্স-রে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। রবিবার সন্ধ্যায় জলঙ্গিতে সস্ত্রীক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন রবিউল ইসলাম নামের ভাদুরিয়াপাড়ার এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় আমার স্ত্রীর  আঙুলে ব্যাপক চোট লেগেছিল। হাসপাতালের ইমারজেন্সি থেকে এক্স-রে লিখেও দিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও আমার স্ত্রীর এক্স-রে করে দেওয়া হয়নি। এক্স-রে করতে গেলে আমাকে বলা হয়েছে, ফিল্ম নেই। এক্স-রে হবে না। এবিষয়ে হাসপাতালের সুপার কৌশিক আদিত্য বলেন, ফিল্মের সঙ্কট রয়েছে। পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত ফিল্ম না থাকায় শুধুমাত্র ইমারজেন্সির ক্ষেত্রেই পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সংকট মেটানোর চেষ্টা করছেন। আশা করি, ডিসেম্বরের মধ্যে ফিল্মের এই সঙ্কট মিটে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ