Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ঢাকায় স্কুলে ভেঙে পড়ল যুদ্ধবিমান, মৃত ২২, ফিরল আমেদাবাদের স্মৃতি ,শোকপ্রকাশ ইউনুস, মোদির

আমেদাবাদের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি ফিরল বাংলাদেশে। ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপর ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ বায়ুসেনার বিমান।

ঢাকায় স্কুলে ভেঙে পড়ল যুদ্ধবিমান, মৃত ২২, ফিরল আমেদাবাদের স্মৃতি ,শোকপ্রকাশ ইউনুস, মোদির
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

ঢাকা: আমেদাবাদের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতি ফিরল বাংলাদেশে। ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপর ভেঙে পড়ল বাংলাদেশ বায়ুসেনার বিমান। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। এর মধ্যে বেশিরভাগই পড়ুয়া। এছাড়াও মারা গিয়েছেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মহম্মদ তৌকির ইসলাম। জখম প্রায় ২০০ জন। তাদের মধ্যে স্কুলের বহু ছাত্রছাত্রীও রয়েছে। অনেকেই আগুনে পুড়ে গিয়েছে। তাদের বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গোটা ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। পাশাপাশি, মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে সমস্ত ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

Advertisement

সোমবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানটি প্রশিক্ষণের জন্য উড়েছিল। কুর্মিটোলায় বিমান বাহিনীর এ কে খন্দকার ছাউনি থেকে ওঠার পরেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পাইলট বিমানটিকে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপর তা ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে ইতিমধ্যে বিমান বাহিনীর তরফে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার কিছুক্ষণ আগে মাইলস্টোন স্কুলে বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
দমকল বিভাগের আধিকারিক লিমা খান জানিয়েছেন, স্কুলের ক্যান্টিনের ছাদে বিমানটি ভেঙে পড়ে। সেখানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে দমকল, পুলিস বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবির ২ প্লাটুন। দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আহত চার জনকে হেলিকপ্টারে চাপিয়ে সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকিদের অ্যাম্বুল্যান্সে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কয়েক জন পড়ুয়াকে সেনা জওয়ানরা কোলে নিয়ে, এমনকী ভ্যানে তুলেও হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
মাইলস্টোন কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহম্মদ সবুজ মিঁঞা বলেন, ‘বেলা একটা নাগাদ ক্লাস শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিছু পড়ুয়া বেরিয়ে গেলেও অনেকেই অভিভাবকদের জন্য অপেক্ষা করছিল। তখনই বিমানটি ভেঙে পড়ে।’ এক অভিভাবিকা ফেরদৌসি বেগম জানান, তাঁর মেয়ে স্কুলের ভিতরে আটকে রয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি। অপর এক অভিভাবক লাকি আখতার জানিয়েছেন, তাঁর দুই সন্তান এই স্কুলে পড়ে। বড়জন স্কুল থেকে বের হতে পারলেও ছোটজন ভিতরে আটকে।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে যাদের শনাক্ত করা যাবে, দ্রুত তাদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাকিদের পরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৫২০ নম্বর ঘরের মেঝেতে বসে কাঁদছিলেন ফাহাদ নিয়ন নামে এক ব্যক্তি। তাঁর ভাগ্নি মেহরিন ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া। তার পোড়া পোশাক আঁকড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ওর দুই হাত ও মুখ পুড়ে গিয়েছে।’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জখমদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়েছিলেন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা। পাশাপাশি হাজির হন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও জামাতের আমির শফিকুর রহমান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ