Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পনেরো বছর পরেও ট্রেন দুর্ঘটনার স্মৃতি দগদগে সাঁইথিয়াবাসীর মনে

ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত পুরুষ, মহিলা ও শিশুর দেহ। সেই লাশের ভিড় থেকেই চলছে জখমদের উদ্ধার কাজ। ১৫ বছর কেটে গেলেও আজও গভীর রাতের সেই স্মৃতি দগদগে সাঁইথিয়াবাসীর মনে।

পনেরো বছর পরেও ট্রেন দুর্ঘটনার স্মৃতি দগদগে সাঁইথিয়াবাসীর মনে
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, সিউড়ি: ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত পুরুষ, মহিলা ও শিশুর দেহ। সেই লাশের ভিড় থেকেই চলছে জখমদের উদ্ধার কাজ। ১৫ বছর কেটে গেলেও আজও গভীর রাতের সেই স্মৃতি দগদগে সাঁইথিয়াবাসীর মনে। সেই ভয়ঙ্কর রেল দুর্ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও অনেকেই শিউরে ওঠেন। ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে থাকেন আর যেন কখনও ফিরে না আসে সেই দুঃস্বপ্নের রাত। 

Advertisement

তারিখটা ২০১০ সালের ১৯ জুলাই। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ২টো। আচমকা বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে সাঁইথিয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাঁইথিয়া স্টেশনে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। সাঁইথিয়া স্টেশনের ৪নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে সবে ছেড়েছিল রাঁচিগামী ডাউন বনাঞ্চল এক্সপ্রেস। সেইসময় দ্রুতগতিতে আসা শিয়ালদহগামী ডাউন উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস সজোরে ধাক্কা মারে। মাটি থেকে প্রায় ২০ফুট উঁচু রেলিং ছুঁয়ে ঝুলেছিল বনাঞ্চল এক্সপ্রেসের একটি কামরা। রেল পুলিস, স্থানীয় থানার পুলিসকর্মীরা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। মৃত ও জখমদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মর্মান্তিক সেই রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ৬৬জনের। ১৫০-র বেশি যাত্রী জখম হয়েছিলেন।
স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা অসীম দাস ওইদিন রাতে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা ঘটেছে শুনেই ক্লাবের ছেলেদের নিয়ে আমরা স্টেশনে ছুটে যাই। বীভৎস ঘটনা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল নিথর মৃতদেহ। সেই মৃতদেহ কোনওরকমে সরিয়ে জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত সিউড়ি হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করি। ছোট ছোট ছেলেমেয়ের দেহ হাতে করে তুলেছি। কোনওদিনও সেই মর্মান্তিক দৃশ্য ভুলব না। এমন দুর্ঘটনা আর কখনও দেখতে চাই না। 
ওই এলাকারই বাসিন্দা শ্যামল মিত্র এবং স্বপনকুমার গড়াই বলেন, গভীর রাতে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারি। ছুটে গিয়ে দেখি রেলের কামরা উঠে গিয়েছে ব্রিজের উপর। চারদিক থেকে আর্তনাদ ভেসে আসছে। সে কী ভয়ঙ্কর দৃশ্য! আজও সেই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার স্মৃতি তাড়া করে। 
দুর্ঘটনার সময় সাঁইথিয়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেসের কাউন্সিলার ছিলেন বিপ্লব দত্ত। বর্তমানে তিনি পুরসভার চেয়ারম্যান। বিপ্লববাবু বলেন, ওই অভিশপ্ত রাত ভুলব না। আমি ও দাদা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। দলের কর্মীরাও ছিল আমাদের সঙ্গে। সেইসময় এত গাড়ি ছিল না। রেলের রেকের ড্রাইভার দিয়ে ট্রাক্টরে করে জখমদের সিউড়ি হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম। এরকম ঘটনা আর যেন না হয়। 
সাঁইথিয়া স্টেশনের রেল দুর্ঘটনার পরও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে দেশজুড়ে। সেই অভিশপ্ত দিনের কথা স্মরণ করে সাঁইথিয়ার বাসিন্দাদের দাবি, এমন রেল দুর্ঘটনা যাতে আর কোনওদিন না হয়, সেদিকে রেলদপ্তর নজর রাখুক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ