সুমন মুখোপাধ্যায়, সিউড়ি: সদর শহরের ঝাঁ চকচকে স্টেশনে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত বেহাল। কলকাতা যাওয়ার হাতে গোনা মাত্র তিনটি ট্রেন। অন্যদিকে রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও জেলা সদরের সঙ্গে রেল যোগাযোগও কার্যত অধরা। আক্ষেপের অন্ত নেই সিউড়িবাসীর। বারংবার দাবি জানিয়েও রেলের কাছে মেলেনি সুরাহা। আক্ষেপের সুর সদরের পাশাপাশি দুবরাজপুরের বাসিন্দাদের মধ্যেও। দুই শহরেই রেলের বঞ্চনা নিয়ে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। পর্যাপ্ত ট্রেনের দাবিতে সরব হয়েছেন দুই শহরের বাসিন্দারা।
শহরবাসীর অভিযোগ, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো সিউড়ি স্টেশন থেকে কলকাতাগামী মাত্র তিনটি ট্রেন রয়েছে। যার মধ্যে একটি শিয়ালদহ ও দু’টি হাওড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। যা পর্যাপ্ত নয়। সিউড়ি-শিয়ালদহ মেমু ট্রেনটি চালুর প্রথম দিকে দুবরাজপুর শহরে ট্রেনের স্টপেজ দেয়নি রেল। পরে যাত্রীদের ক্ষোভের জেরে মাথানত করে দুবরাজপুর স্টেশনে শিয়ালদহ মেমু ট্রেনের স্টপেজ দেয় রেল। সদর শহর সিউড়িতে এই তিনটি ট্রেনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান অনেকটাই। এই সময়ের ব্যবধানে কলকাতা যাওয়ার জরুরি দরকার পড়লেও জেলা সদর থেকে প্রায় ১৮কিলোমিটার দূরের ছোট্ট শহর সাঁইথিয়ায় গিয়ে ট্রেন ধরে যাতায়াত করতে হয়। সিউড়ি স্টেশনে গুটিকয়েক ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে যা মোটেই পর্যাপ্ত নয়। সেই ট্রেনগুলি সম্বল করে কলকাতা এবং রাজ্যের অন্যান্য জেলায় যাতায়াত করতে হচ্ছে শহরের বাসিন্দাদের। যদিও রেলের এক আধিকারিক জানান, চাহিদা থাকলে ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে।
গরমের মরশুমে অনেকের উত্তরবঙ্গে ঘুরতে যান। কিন্তু জেলা সদর থেকে সরাসরি উত্তরবঙ্গের পর্যাপ্ত ট্রেন নেই। বাধ্য হয়ে গাড়ি ভাড়া করে সদর শহর থেকে অনেকটা দূরে সাঁইথিয়া অথবা বোলপুরে গিয়ে ট্রেন ধরে তাঁদেরকে যাতায়াত করতে হয়। সিউড়ি স্টেশন থেকে চারটি ট্রেন সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে চলাচল করে। কার্যত উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এখন সড়কপথ।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিউড়ি স্টেশন দিয়ে প্রায় ১৩টি ট্রেন চলাচল করে। যার মধ্যে প্রায় পাঁচটি মেমু ট্রেন। তিনটি কলকাতাগামী ও বাকি চারটি সাপ্তাহিক ট্রেন যাতায়াত করে। শহরবাসীর আক্ষেপ, এগুলো রেলের সান্ত্বনা পুরস্কার মাত্র। অন্যদিকে এই ট্রেনগুলি দুবরাজপুর শহরের উপর দিয়েই যাতায়াত করে। যদিও কলকাতা ও অণ্ডালগামী ট্রেনগুলি স্টপেজ থাকলেও অন্য রাজ্য বা জেলায় যাতায়াতকারী ট্রেনগুলি স্টপেজ নেই দুবরাজপুরে। রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ার কারণে জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম বক্রেশ্বর সতীপীঠ তথা উষ্ণ প্রস্রবণ, দুবরাজপুরের মামা ভাগ্নে পাহাড় কার্যত অন্ধকারেই রয়ে যায়।
সিউড়ির চন্দ্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সন্দীপন রায় বলেন, সদরের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অতি অবশ্যই উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। অধিকাংশ সময়ই দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে আমাদের সাঁইথিয়া বা বোলপুরে যেতে হয়। সিউড়ি থেকে কলকাতাগামী রেল ব্যবস্থা মেমু ট্রেনের মাধ্যমে কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এটিও যে খুব পর্যাপ্ত হয়েছে সেটাও নয়। আরও যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ালে ভালো হয়। সিউড়ি-প্রান্তিক রেললাইন করা সম্ভব হলে কিছুটা হলেও ঘাটতি পূরণ হবে বলে মনে হয়। দুবরাজপুরের বাসিন্দা প্রভাত দাস বলেন, আমাদের দূরপাল্লার ট্রেন ধরতে গেলে মেমু ট্রেন ধরে অণ্ডাল যেতে হয়। সেখান থেকে আবার গন্তব্যের উদ্দেশে ট্রেন ধরে রওনা দিতে হয়।