Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

জ্বর সর্দি কাশি: ভোগান্তির ৬ ভাইরাস চিনুন

শুরু হয়েছে ভাইরাস কাল! জ্বর-সর্দি-কাশির উপসর্গে ইতিমধ্যেই কাহিল রাজ্যবাসী। মরশুমের আসল ভিলেন কোন ভাইরাসগুলি, আলোচনা করলেন দিল্লি এইমস-এর প্রাক্তনী ও ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অভিরূপ সরকার।

জ্বর সর্দি কাশি: ভোগান্তির  ৬ ভাইরাস চিনুন
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

ভাইরাল ফিভার। প্রতি বছর ঋতুবদলের সময় এই শব্দ দু’টি যেন এখন বাঙালির জীবনযাত্রার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে। আবহাওয়ার ঘন ঘন পরিবর্তনে জ্বর, সর্দি আবার অনেক সময় তার সঙ্গে কাশি। ভাইরাল ফিভারের এই সব লক্ষণের সঙ্গে বাঙালি এখন পরিচিত। কিন্ত শুধু শীত বা বর্ষাকালে নয়। ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, সারা বছর জ্বর-সর্দি সংক্রান্ত বিভিন্ন ভাইরাস সক্রিয় থাকে। এই ভাইরাসগুলির প্রকোপ ঋতু, জনসংখ্যার ঘনত্ব, এবং পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। 
১. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
ইনফ্লুয়েঞ্জার নাম সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত ভাইরাস। প্রাচীন ইতিহাসেও এই ভাইরাসে বহু মানুষের আক্রান্ত হওয়ার নিদর্শন রয়েছে। যদিও সেই সময় এটি ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত ছিল না। ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশ গবেষকরা এই ভাইরাস আবিষ্কার করেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আবার এ, বি, সি, ডি টাইপ রয়েছে। এ টাইপের মধ্যে পরিচিত ভাইরাস এইচ১এন১ ভাইরাস। যাকে আমরা সোয়াইন ফ্লু নামে চিনি। তবে চলতি বছরে এইচ৩এন২ ভাইরাস সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। সংক্রমণের প্রকারভেদে শারীরিক সমস্যা আলাদা হয়।  জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা, কাশি, শরীর ব্যথা, এবং ক্লান্তি-এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান লক্ষণ। 
২. রাইনো ভাইরাস
সাধারণ সর্দি-কাশির প্রধান কারণ এই ভাইরাস। এটি ভারতে সবচেয়ে সাধারণ ভাইরাসগুলির মধ্যে একটি এবং শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ১৯৫৬ সালে এই ভাইরাস আবিষ্কার করেন ডাঃ উইনস্টন প্রাইস। রাইনো ভাইরাসের সংক্রমণে নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি, নাক বন্ধ, হালকা জ্বর হতে পারে। বর্ষা ও শীতে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ে। 
৩. অ্যাডিনো ভাইরাস
কয়েক বছর আগেই অ্যাডিনো ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে হইচই শুরু হয়েছিল। জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি, কাশি এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা ও চোখের সংক্রমণও (কনজাঙ্কটিভাইটিস) দেখা যায়। সাধারণত খুব বেশি শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় না। তবে জনবহুল এলাকায় এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পরে। ১৯৫৩ সালে এই ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়।
৪. রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস
শিশুদের মধ্যে রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস বা আরএসভি সংক্রমণ বেশি দেখা যায়।  সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে)-এই ভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ১৯৫৬ সালে এই ভাইরাস আবিষ্কার হয়। সাধারণত প্রাণঘাতী না হলেও শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাস বেশি আক্রমণ করে বলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু প্রয়োজন। 
৫. এন্টারো ভাইরাস
 গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে এন্টারো ভাইরাসের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। জ্বর, হাঁচি, সর্দি, গলা বা পেশিতে ব্যথা এর অন্যতম লক্ষণ। 
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে কনজাঙ্কটিভাইটিস, হাত-পা-মুখে র‍্যাশ দেখা যায়। সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিলে মেনেজাইটিস, এনসেফালাইটিস বা মায়োকার্ডিটিসের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। ১৯৬০ সালে এই ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করা হয়। 
৬. করোনা ভাইরাস
করোনার কথা বললেই আমাদের মনে কোভিড অতিমারীর সেই আতঙ্কের দিনগুলির কথা মনে পরে যায়। তবে সব করোনা ভাইরাসই সার্স-কোভ ২ বা কোভিড-১৯ এর মতো প্রাণঘাতী পর্যায়ে যায় না। করোনা ভাইরাস প্রথম চিহ্নিত হয় ২০০৩ সালে। বেশ কয়েকটি করোনা ভাইরাসের প্রকার রয়েছে যাদের সংক্রমণে সাধারণত হালকা জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথার বেশি সমস্যা হয় না। কোভিড-১৯ও এখন নিয়ন্ত্রণে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। 
প্রতিকার
• ভাইরাসের সংক্রমণের সরাসরি চিকিৎসা সেভাবে নেই। যে যে উপসর্গ দেখা দেয়, সেই অনুযায়ী চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই শারীরিক সমস্যা যদি বেশি হয় তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
• শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণও দেখা যায়। সেক্ষেত্রে জটিলতা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। তাই বয়স্ক বা শিশুদের ভাইরাসঘটিত রোগ হলে আর কোনও সমস্যা হচ্ছে কী না, তার দিকে নজর রাখা উচিত।
• ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে এখন ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।প্রতি বছর এই টিকা নিতে হয়। যাদের খুব ভিড়ের মধ্যে কাজ করতে হয় বা কাজের সূত্রে রোগীদের কাছাকাছি যেতে হয়, তাঁরা এই টিকা নিতে পারেন। এছাড়া শিশু ও বয়স্কদেরও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নিয়ে রাখা উচিত। 
• ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বেঁচে চলার অন্যতম প্রধান উপায় হল স্বাস্থ্যবিধি (হাইজিন) মেনে চলা। কেউ সংক্রামিত হলে কিছুদিন তার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, মাস্ক ব্যবহার, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, ভিড় এড়িয়ে চলা, স্যানিটাইজার ব্যবহার প্রভৃতি বিষয়গুলি মেনে চলা উচিত।
• কোনও মরশুমে প্রতি বছর একই ভাইরাস সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত হবে এমনটা নয়। আবার একই ভাইরাস রূপ পাল্টেও আসতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন। প্রয়োজন বুঝলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Advertisement


লিখেছেন শুভজিৎ অধিকারী

সম্পর্কিত সংবাদ