নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আজ, রবিবার সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন সুজিত ও সোনালি। অন্যদিকে, ৯ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবেন ঋজু-শ্রাবণী। জলপাইগুড়ি শহরের দু’টি হোমের আবাসিক সোনালি ও শ্রাবণী। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হোম থেকেই বিয়ে হচ্ছে তাঁদের। বিয়ের কেনাকাটা থেকে নেমতন্ন, ভূরিভোজের আয়োজন, সবটা সারতে হোম কর্তৃপক্ষের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। একই সঙ্গে দুই হোম-কন্যার বিয়ে ঘিরে খুশির আমেজ তিস্তাপাড়ের শহর জলপাইগুড়িতে। জেলা শিশুসুরক্ষা আধিকারিক সুদীপ ভদ্র বলেন, হোমের দু’টি মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। তারা নতুন পরিবার পাচ্ছে। এর চেয়ে খুশির খবর আমাদের কাছে কী হতে পারে!
সোনালি ২০১৭ সাল থেকে জলপাইগুড়ির ‘নিজলয়’ হোমে রয়েছে। এখন অবশ্য তিনি থাকেন ওই হোম চত্বরেই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে মেয়েদের থাকার আর একটি হোমে। পরিবারে কেউ নেই। হোমে থাকতে থাকতে তিনি পড়াশোনা শিখেছেন। জানেন হাতের কাজও। তাঁর বিয়ে হচ্ছে জলপাইগুড়ির কোণপাকরির বাসিন্দা চা বাগানের শ্রমিক সুজিত রায়ের সঙ্গে। পাত্রের মামা জুয়েলারি দোকানের কর্মী নীলকমল রায় বলেন, ভাগ্নের জন্য পাত্র খুঁজছিলাম। আমার ইচ্ছে ছিল, হোমের কোনও মেয়ের সঙ্গে যদি ভাগ্নের বিয়ে দেওয়া যায়। সেইমতো সোনালির খোঁজ পাই। হোমে প্রস্তাব পাঠাই। আইনি প্রক্রিয়া মেনে কাগজপত্র খতিয়ে দেখে প্রশাসনের উপর মহল থেকে অনুমতি মেলে। শুক্রবার হোম কর্তৃপক্ষ এসে ভাগ্নেকে আশীর্বাদ করে গিয়েছে। আমরা বিয়ের দিন পাত্রীকে আশীর্বাদ করব।
‘নিজলয়’ হোমের এক কর্মী বলেন, মেয়ের বিয়ে বলে কথা। ব্যস্ততা তো থাকবেই। হোমে সানাই বাজবে, আমাদের মেয়ে নতুন পরিবার পাবে, এটা কী কম আনন্দের!
অন্যদিকে, ৯ জুলাই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন জলপাইগুড়ির ‘অনুভব’ হোমের আবাসিক শ্রাবণী। বেসরকারি সংস্থার কর্মী ঋজু বিয়ে করছেন তাঁকে। ঋজুর বাবা নেই। এক ভাই বাইরে থাকেন। মাকে নিয়ে জলপাইগুড়ি শহরে থাকেন ঋজু। জলপাইগুড়িতে জেলা পরিষদ অফিস লাগোয়া কর্মতীর্থ ভবনে বসবে তাঁদের বিয়ের আসর। ঋজু ও শ্রাবণীর বিয়ে ঘিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে ‘অনুভব’ হোমে। পাত্রীকে নিয়ে চলছে বিয়ের কেনাকাটা। ইতিমধ্যেই পছন্দ করে কেনা হয়েছে বেনারসি। নিমন্ত্রণপর্বও শেষ।
হোমের কো-অর্ডিনেটর দীপশ্রী রায় বলেন, প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বিয়ের মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হবে। মেয়েটি ড্রপআউট ছিল। আমরা ওকে নতুন করে পড়াশোনা করাই। মাধ্যমিক পাশ করেছে। হাতের কাজও জানে।