নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, মালদহ: এসএসসি মামলায় মালদহে চাকরিহারা কয়েকশো শিক্ষক-শিক্ষিকা। বহু স্কুলের পঠনপাঠন লাটে ওঠার আশঙ্কায় হাহাকার জেলাজুড়ে।
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, মালদহ: এসএসসি মামলায় মালদহে চাকরিহারা কয়েকশো শিক্ষক-শিক্ষিকা। বহু স্কুলের পঠনপাঠন লাটে ওঠার আশঙ্কায় হাহাকার জেলাজুড়ে।
ইংলিশবাজার শহরের বার্লো গার্লস হাইস্কুলেই চাকরি খুইয়েছেন পাঁচ জন। প্রধান শিক্ষিকা দীপশ্রী মজুমদার বলেন, আমাদের স্কুলে চারজন ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনই উচ্চ মাধ্যমিকের। এদের মধ্যে একজন পলিটিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষিকা। সেটা ছিল ওই বিষয়ে স্কুলের একমাত্র পোস্ট। এছাড়াও তিনজন সায়েন্স গ্রুপের শিক্ষিকা। একজন গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীও আছেন চাকরিহারাদের তালিকায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, পঠনপাঠন স্বাভাবিক ছন্দে চললেও টিচার্স রুমে এক অদ্ভূত নীরবতা। শীর্ষ আদালতের রায়ে সদ্য চাকরি হারানো চার শিক্ষিকা প্রকাশ্যে আসতে চাননি। তবে স্কুলের একটি ঘরে নিজের চাকরি হারানোর শোক সামলাতে না পেরে একাই বসেছিলেন গ্রুপ ‘ডি’ কর্মী ভেরোনিকা টুডু। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, আমার ব্যাঙ্ক লোন আছে। সেই টাকা কী করে শোধ করব বুঝতে পারছি না।
প্রধান শিক্ষিকা আরও জানান,আমাদের খুব অসুবিধে হবে। এই শিক্ষিকারাও আশা করেননি। আমাদের ভীষণ খারাপ লাগছে।
বিভিন্ন স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরাতন মালদহ ব্লকের আল্লাদমনি গার্লস হাইস্কুলের চারজন শিক্ষিকা, গাজোল ব্লকের হাতিমারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষক ও এক অশিক্ষক কর্মী সহ মোট ১৪ জনের চাকরি গিয়েছে। হবিবপুর ব্লকের মানিকরা উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’জন শিক্ষিকা, পাঁচজন শিক্ষক ও এক অশিক্ষক কর্মী সহ মোট ৮ জন চাকরি হারিয়েছেন।
বামনগোলা ব্লকের পাকোয়াহাট আনন্দনিকেতন মহাবীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষক, এক শিক্ষিকা এবং দু’জন অশিক্ষক কর্মী চাকরিহারা হয়েছেন।
হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলের ছ’জন শিক্ষক ও একজন অশিক্ষক, মহেন্দ্রপুর হাইস্কুলের দু’জন শিক্ষক, একজন শিক্ষিকা ও একজন শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে।
রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের ভালুকা রায়মোহন মোহিনমোহন বিদ্যাপীঠের তিন জন শিক্ষক, এক শিক্ষিকা ও একজন গ্রুপ ‘সি’ কর্মীর চাকরি গিয়েছে। ভাদো বিএসবি হাইস্কুলের ছয় জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে।
চাঁচল -১ ব্লকের শীতলপুর মোবারাকপুর হাইস্কুলের আট শিক্ষক, চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইন্সটিটিউশনের পাঁচ শিক্ষক ও পল্লিগ্রাম হাইস্কুলের একজন শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। কালিয়াচক-১ ব্লকের কালিয়াচক হাইস্কুলের দুই শিক্ষক ও দুই শিক্ষিকাও চাকরি হারিয়েছেন।
কালিয়াচক -২ ব্লকের পঞ্চানন্দপুর সুকিয়া হাইস্কুলের পাঁচজন শিক্ষক, এক শিক্ষিকা এবং একজন গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। কলিয়াচক -৩ ব্লকের বেদরাবাদ হাইস্কুলের পাঁচজন শিক্ষক, এক অশিক্ষক কর্মীর চাকরি গিয়েছে আদালতের রায়ে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক শিক্ষাকর্মী। - নিজস্ব চিত্র।