Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরিহারা শতাধিক পড়াশোনা লাটে ওঠার শঙ্কা, শিলিগুড়ির স্কুলগুলিতে স্তব্ধতা, কান্নার রোল

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পাহাড় ও সমতলে চাকরি খোয়ালেন কয়েকশো শিক্ষক।

চাকরিহারা শতাধিক পড়াশোনা লাটে ওঠার শঙ্কা, শিলিগুড়ির স্কুলগুলিতে স্তব্ধতা, কান্নার রোল
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পাহাড় ও সমতলে চাকরি খোয়ালেন কয়েকশো শিক্ষক। কোনও স্কুলে দু’জন, আবার কোথাও ছয় থেকে সাতজন করে শিক্ষক কমেছে। এনিয়ে চরম সঙ্কটে স্কুলগুলি। অধিকাংশ স্কুলে পঠনপাঠন লাটে উঠবে বলে শঙ্কা। এদিকে, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এমন রায় জারির পর হতাশ হয়ে পড়ে শিক্ষকমহল। এদিন স্কুলেই চাকরিহারাদের একাংশ কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

Advertisement

ওই স্কুলগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি গার্লস একটি। এই স্কুলেই চাকরি হারিয়েছেন সাতজন শিক্ষিকা। যারমধ্যে দু’জন কলা এবং পাঁচজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা। স্কুল সূত্রে খবর, বর্তমানে স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা তিন হাজার। এতদিন পর্যন্ত শিক্ষিকা ছিলেন ৫০ জন। সাতজন কমে শিক্ষিকার সংখ্যা দাঁড়াল ৪৩। স্কুলের প্রধান শিক্ষকা অত্যুহা বাগচি বলেন, ওই শিক্ষিকারা আমাদের সম্পদ ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকেই যোগ্য। তাঁদের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। তাঁদের কেন চাকরি হারাতে হল তা বুঝতে পারছি না। এতে স্কুলের পঠনপাঠন চালাতে গিয়ে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। বর্তমানে সংস্কৃত ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকার পদ শূন্য হয়ে গেল। 
শহরের রাজেন্দ্রপ্রসাদ গার্লস হাইস্কুলের অবস্থাও একই। এখানে ইংরেজি, বিজ্ঞান ও অঙ্কের ছ’জন শিক্ষিকা চাকরি খুইয়েছেন। ভারতী হিন্দি বিদ্যালয়ের পাঁচজন, নকশালবাড়ি নন্দপ্রসাদ হাইস্কুল ও ফাঁসিদেওয়া কুরবান আলি হাইস্কুলে সাতজন করে, বেলগাছি হিন্দি হাইস্কুলের আটজন, মুরালিগঞ্জ ও খড়িবাড়ি শাস্ত্রীজি হাইস্কুলে পাঁচজন করে, বিধাননগর সন্তোষিণী বিদ্যাচক্র হাইস্কুলে ছ’জন শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। 
এদিন দুপুরের পর স্কুলগুলির ছবিটাই পাল্টে যায়। অধিকাংশ স্কুল ছিল থমথমে। রাজেন্দ্রপ্রসাদ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সঞ্চিতা দেবনাথ বলেন, এতদিন পর্যন্ত স্কুলে ২৫শো ছাত্রীর জন্য শিক্ষিকার সংখ্যা ছিল মাত্র ২৮ জন। সেই সংখ্যা কমে দাঁড়াল ২২ জন। স্কুলের পঠনপাঠন চালাতে গিয়ে সমস্যা পড়তে হবে। 
বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলায় চাকরি খুইয়েছেন প্রায় ৩০০ জন শিক্ষক। দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়েও চাকরিহারার সংখ্যা অনেক। এদিন স্কুলেই চাকরিহারাদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। অধিকাংশই কথা বলতে চাননি। কেউ কেউ বলেন, ২০১৬-র এসএসসি দিয়ে ২০১৮ সালে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দিয়েছি। ইতিমধ্যে ব্যাঙ্ক ঋণে বাড়ি ও গাড়ি করেছি। সেগুলির ইএমআই চলছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব বুঝতে পারছি না।  শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুল। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ