লখনউ: শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, গুণগত মান ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিই লক্ষ্য। তাই রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পোশাক বিধি বাধ্যতামূলক করা হবে। মে মাসে এমনই জানিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। মাঝে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। দেশজুড়ে জেন জি আন্দোলন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সহ নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ। অগত্যা মাস তিনেকের মধ্যেই পোশাক বিধি নিয়ে পিছু হটল যোগী সরকার। শনিবার উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত স্থগিত করা হল ড্রেস কোড চালুর সিদ্ধান্ত। এদিন সে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায় জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে। মাঝপথে ড্রেস কোড চালু করলে পড়ুয়াদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। তাই এই পদক্ষেপ।
যোগী সরকারের হঠাৎ এই ভোলবদল নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। একাংশের কথায়, শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে যাওয়ার যুক্তিটা অজুহাত ছাড়া কিছু নয়। আসলে শাসক দল ভয় পেয়েছে। সম্প্রতি স্কুল ঠিক করো অভিযানকে কেন্দ্র করে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছে প্রশাসন। রাস্তাঘাট, স্কুলের বেহাল পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে পথে নেমেছে খুদে পড়ুয়ারা। চারদিকে সরকার বিরোধী হাওয়া তীব্র হচ্ছে। এইসময় ড্রেস কোড চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে পরিণাম ভালো হবে না। এই আশঙ্কা থেকেই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ইউনিফর্ম চালুর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করবে সরকার। জুলাই-আগস্টে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সমস্ত দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপরই শুধু বিরোধীরা নয় সরব হয়েছেন শিক্ষাবিদরাও। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রুপরেখা ভার্মার কটাক্ষ — এসব ছেড়ে সবার আগে শূন্যপদ, অনিয়মিত পঠনপাঠন, পড়ুয়া সংখ্যা হ্রাস, পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলির উপর নজর দিক প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।