Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬

দায় নিতে নারাজ স্পিকারও? সংকটে ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল

একদিকে সুপ্রিম কোর্ট, অন্যদিকে লোকসভার স্পিকারের ‘আদালত’। বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদের সামনে কঠিন লড়াই।

দায় নিতে নারাজ স্পিকারও? সংকটে ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: একদিকে সুপ্রিম কোর্ট, অন্যদিকে লোকসভার স্পিকারের ‘আদালত’। বিদ্রোহী ২০ তৃণমূল সাংসদের সামনে কঠিন লড়াই। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তাঁদের জমা দিতে হবে জবাব। যুক্তি দিয়ে জানাতে হবে, তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে তাঁদের (২০ জনের) সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলেছেন, তা কেন মানা হবে না? কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর কেন? কারণ, অভিষেকের দায়ের করা এই সংক্রান্ত মামলায় গত ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট স্পিকারের কাছে এই এমপিদের জবাবদিহির জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। আর সেদিনই ওম বিড়লা তাঁদের চিঠি দিয়েছিলেন। সাতদিনের সেই সময়সীমাই শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানি ১৮ সেপ্টেম্বর। ফলে জোড়া চাপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষদস্তিদারদের মতো তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যাওয়া সাংসদরা। প্রশ্ন একটাই—সাংসদ পদ থাকবে তো?

Advertisement

নিজেদের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে অবশ্য এক-দু’দিনের মধ্যেই জবাবি চিঠি লোকসভার স্পিকারকে জমা দেওয়া হবে বলে রবিবার প্রতিবেদককে জানিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষদস্তিদার। সুদীপবাবু বলেন, ‘দিল্লিতেই জবাবি চিঠি তৈরি করছেন আ‌ইনজীবীরা। আজকালের মধ্যে তা হাতে পেয়ে যাব। তারপর পাঠিয়ে দেব স্পিকারের কাছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এনডিএ শরিক হিসাবেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। ফলে শরিক দল সমস্যায় পড়লে তা তো মোদি-অমিত শাহকেই দেখতে হবে।’ কাকলিদেবী জানান, ‘লোকসভার স্পিকার আমাদের ২০ জনের প্রত্যেককে আলাদা করে চিঠির জবাব চেয়েছেন। কিন্তু আমরা একসঙ্গে একটি চিঠিতেই জবাব দেব। কারণ, আইনসিদ্ধভাবে আমরা দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একত্রে তৃণমূল থেকে এনসিপিআইতে গিয়েছি বলে স্পিকারকে (গত ১৪ জুন) একটি চিঠিতে জানিয়েছিলাম।’ যদিও বিদ্রোহীদের মধ্যেও তিনজনকে নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। আবু তাহের তো জানিয়েই দিয়েছেন, ‘যাই হোক, বিজেপিতে যোগ দেব না।’ ফলে সংকট বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগে স্পিকারের ‘আদালতে’ কী বিচার হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল কম নয়। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী ২০ সাংসদের জবাবি চিঠি পাওয়ার পর স্পিকার বিষয়টি নিজের কাঁধে রাখতে চাইছেন না। লোকসভার ‘প্রিভিলেজ কমিটি’তে পাঠিয়ে দেবেন বলেই জানা গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য, এর আগে তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী ২০২১ সালের পর বিজেপির মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি দলের নির্দেশ উপেক্ষা করে উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জগদীপ ধনকারকে ভোট দিয়েছিলেন। তখন তাঁর সদস্যপদ খারিজের জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি গিয়েছিল প্রিভিলেজ কমিটিতে। যদিও নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন (২০২৪ সাল) চলে আসে। এক্ষেত্রেও কি সেরকমই হবে? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রিভিলেজ কমিটির এখন চেয়ারম্যান বিজেপির রবিশংকর প্রসাদ। ১৫ জনের কমিটিতে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘বিচারে’র বিষয়টি প্রিভিলেজ কমিটিতে গেলে উভয়পক্ষকেই ডেকে বক্তব্য শোনা হবে। কিন্তু আদৌ কোনো ফয়সালা হবে, নাকি বিষয়টি দীর্ঘায়িত হবে পরের লোকসভা পর্যন্ত? যাতে সাপও মরল, আবার লাঠিও ভাঙল না!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ