Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যুর পর গ্রামে ভূতের আতঙ্ক

সারাদিন দিনমজুরি করে সন্ধ্যায় বাড়ির দাওয়ায় বসে গল্পগুজব করছিলেন ইন্দপুরের বাঁশকেটিয়া গ্রামের বাউরিপাড়ার এক দম্পতি। হঠাৎ লাগোয়া জঙ্গল থেকে তাঁদের কানে বিচিত্র শব্দ ভেসে আসে।

একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যুর পর গ্রামে ভূতের আতঙ্ক
  • ১৪ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: সারাদিন দিনমজুরি করে সন্ধ্যায় বাড়ির দাওয়ায় বসে গল্পগুজব করছিলেন ইন্দপুরের বাঁশকেটিয়া গ্রামের বাউরিপাড়ার এক দম্পতি। হঠাৎ লাগোয়া জঙ্গল থেকে তাঁদের কানে বিচিত্র শব্দ ভেসে আসে। ওই শব্দের উৎস ক্রমশ তাঁদের দিকেই আসছে বলে দম্পতির মনে হয়। ফলে তড়িঘড়ি বাড়ির বাইরে আলো জ্বালিয়ে রেখে দু’জনে ঘরের দরজায় খিল আঁটেন। গত চার বছরে ওই গ্রামে এক পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর পর ভূতের আতঙ্ক বাসিন্দাদের গ্রাস করেছে। বাসিন্দাদের একাংশ আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীদের মনে আস্থা জোগাতে এলাকায় গিয়েছিলেন পুলিস, প্রশাসনের আধিকারিকরা। ব্লক স্বাস্থ্যদপ্তর ও বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধিদের নিয়ে তাঁরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে রাতে বৈঠকও করেন। ভয় কাটাতে ইন্দপুর ব্লক প্রশাসনের তরফে প্রত্যন্ত ওই গ্রামের রাস্তায় পথবাতি লাগানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

খাতড়ার এসডিপিও অভিষেক যাদব বলেন, বাসিন্দাদের মন থেকে ভূতের ভয় দূর করতে ইন্দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক গ্রামে গিয়েছিলেন। যে কোনও প্রয়োজনে থানায় যোগাযোগ করার জন্য বাসিন্দাদের বলা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। 
ইন্দপুর ব্লকের এক আধিকারিক বলেন, বর্তমানে কেউ গ্রামছাড়া নেই। যে পরিবারে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বাড়িতে কোনও পুরুষ সদস্য নেই। ফলে বাড়ির মহিলারা আত্মীয় বাড়িতে রয়েছেন। তাঁদেরও গ্রামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এলাকায় পথবাতি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহখানেক আগে বাঁশকেটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বছর ঊনিশের এক যুবক জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর আগে রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই যুবকের কাকা ও বাবার মৃত্যু হয়েছিল। একই পরিবারে পরপর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবেশীদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ক্রমশ তা অন্যান্যদের গ্রাস করে। এরইমধ্যে বাসিন্দারা রাতে বিচিত্র ও উদ্ভট শব্দ শুনতে পাচ্ছেন বলে দাবি করেন। তাতে আতঙ্ক আরও বাড়ে। 
সন্ধ্যার পর প্রত্যন্ত ওই গ্রামে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। ফলে বাসিন্দাদের বুক দুরুদুরু করে। ভোরের আলো ফোটার আগে পর্যন্ত তাঁরা ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন। অনেকেই ‘অশরীরিদের’ আগমনের আশঙ্কায় রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। ইন্দপুর বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক মোনালিসা পাত্র বলেন, কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়েই মানুষের মধ্যে ভূতের ভীতি জন্মায়। আমরা বাসিন্দাদের মন থেকে ওই ভীতি দূর করতে বাঁশকেটিয়া গ্রামে রাত কাটিয়েছি। গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গল থেকে রাতে পশুপাখির ডাক ভেসে আসে। তাতেই বাসিন্দারা ভয় পাচ্ছেন। আমরা ফের গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সাহস জোগাব। • নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ