নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রোজ প্রায় ৪৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ছে ডিভিসি। ফের সৃষ্টি হতে পারে বন্যা পরিস্থিতি। এই অবস্থায় প্রশাসনের আধিকারিকরা তড়িঘড়ি বিভিন্ন ব্লকে বিপুল পরিমাণে ত্রাণ পাঠানো ব্যবস্থা করলেন। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন ব্লক প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জুন মাসেই প্রতিটা ব্লক এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ পাঠানো হয়। তবে লাগাতার বৃষ্টি হওয়ায় ফের বন্যার ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে। তাই আরও বেশি পরিমাণে ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে কংসাবতী, শিলাবতী সহ একাধিক নদীতে জল বেড়েছে। তাই দিনের বেলায় তো বটেই, রাতেও বিশেষ প্যাট্রলিং চলছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। নদী তীরবর্তী এলাকার গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, রাত বাড়লেই ভয় বাড়ছে। কারণ, রাতের দিকেই বিভিন্ন গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করে। তবে প্রশাসনের তরফে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা শাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আরও ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। একজন মানুষও যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। বৃষ্টি কমলেই জল নামতে শুরু করবে। ঘাটাল মহকুমায় সর্বক্ষণ প্রশাসনের আধিকারিকরা থাকছেন। জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ মজুত রয়েছে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহের পর থেকে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই সময়ের পর থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ছে। একদিকে প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অপরদিকে, ডিভিসি থেকে বিপুল পরিমাণে জল ছাড়া শুরু হয়েছে। আর তাতেই উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রায় চারশো কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সাড়ে তিন হাজারের বেশি মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি ত্রিপল পাঠানো হয়েছে। ঘাটাল মহকুমায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এনিয়ে রাজ্যে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।
গড়বেতা-২ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, নদীর জল ফুঁসছে। তবে গ্রামে জল ঢুকে যাওয়ার খবর নেই। প্রশাসনের আধিকারিকরা নিয়মিত নদী তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন। বৃষ্টি বাড়লে অথবা ফের হড়পা বান এলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কেশপুরের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল বলেন, গত বছর কেশপুর ব্লকে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। তবে এবছর পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক। বেশকিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল। সেই সমস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেয় প্রশাসন। তবে এই এলাকায় কোনও নির্দিষ্ট ত্রাণ শিবির নেই। স্কুলে থাকতে হয় সাধারণ মানুষকে। যা খুবই সমস্যার।