গাজিয়াবাদে তিন বোনের আত্মহত্যা তদন্তে সামনে এল বাবার নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:০২
Prefer us on Google

গাজিয়াবাদ: কোরিয়ান কনটেন্টের প্রতি তীব্র আসক্তি। তার জেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল গাজিয়াবাদের তিন বোন। বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ও ন’পাতার সুইসাইড নোটকে কেন্দ্র করে গোটা দেশে সাড়া পড়ে গিয়েছে। এরইমাঝে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Advertisement

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইন গেমে আসক্ত মেয়েদের কাছ থেকে ফোন কেড়ে নেন বাবা চেতন কুমার। আর তা মেনে নিতে পারেনি তিন নাবালিকা। ক্রমে অবসাদে ভুগতে শুরু করে তারা। একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এনিয়ে ডিসিপি (ট্রান্স হিন্দন) নিমিশ পাতিল জানিয়েছেন, বাবা ফোন কেড়ে নেওয়ায় বিপাকে পড়েছিল তিন বোন। পরের দিকে ওদের বাবা ফোনগুলি বিক্রিও করে দেয়। ওরা আর অনলাইন গেম খেলতে পারছিল না। অনলাইনে কোরিয়ান বন্ধুদের সঙ্গে কথাও বলতে পারছিল না। রীতিমতো অস্থির হয়ে পড়েছিল। ঘটনার দিন রাতে ওরা মায়ের ফোন নিয়েছিল। কিন্তু সেই ফোনে কোরিয়ান অ্যাপ খুলতে পারেনি। এই হতাশা থেকে নিজেদের শেষ করে দেয়।

ইতিমধ্যেই আঙুলের ছাপ, সুইসাইড নোট ও যাবতীয় নথি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত নাবালিকাদের বাবাকে নিয়েও রহস্য ঘনাচ্ছে। জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালে রাজেন্দ্র নগর কলোনিতে চেতন কুমারের লিভ-ইন পার্টনার বহুতলের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। তেমন কোনও প্রমাণ না মেলায় শেষমেশ পুলিশি ফাইলে তা ‘আত্মহত্যা’র ঘটনা হয়েই থেকে যায়। বর্তমানে চেতন কুমারের তিনজন স্ত্রী। সুজাতা, হীনা ও টিনা। এরা তিনজনে আবার একে অন্যের বোন। এদিকে, মৃত তিন বোন বরাবরই বাবার খুব কাছের ছিল। মায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ততটা ভালো ছিল না। এক্ষেত্রে শুধুই অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি নাকি এই আত্মহত্যার পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যাদের কাছে চেতন ফোন বিক্রি করেছিলেন, তাদের খোঁজ চলছে। তাহলেই একাধিক বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।