নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুনের অপরাধে এক ব্যক্তির ফাঁসির সাজা হল আসানসোল পকসো কোর্টে। বুধবার বিচারক সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে এই রায়দান হয়। আসানসোল কোর্টের ইতিহাসে ফাঁসির সাজা ঘোষণা বিরল ঘটনা। এই অপরাধকে বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা বলে উল্লেখ করে বিচারক তার ব্যাখ্যা করেন। ৮০ পাতার অর্ডার কপিতে বিচারকের মন্তব্য, ‘নিজের ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে বাবা, মায়ের কাছে শুয়ে থাকা মেয়ে যদি ধর্ষিত হয় তাহলে সে কোথায় সুরক্ষিত! সব মেয়ের কাছেই বাবা তাঁর চাইল্ডহুড হিরো। সে-ই এই ঘটনা ঘটাল। যে নিজের মেয়েকে লালসার শিকার করছে তার টোটোয় কোন মেয়ে সুরক্ষিত থাকবে? তিনি বলেন, আমি একটাও কারণ খুঁজে পাচ্ছি না, যেখানে তাকে ফাঁসির সাজা না দেওয়া যায়। কারণ এই ধর্ষণ ও খুন পরিকল্পনা মাফিক ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছে। চরমতম অপরাধ করার পর প্রমাণ লোপাটেরও চেষ্টা হয়েছে। তিনি অর্ডারের শেষ ভাগে লিখেছেন, এই অপরাধ শুধুমাত্র সামাজিক অপরাধ নয়, এই অপরাধ মানবতার বিরুদ্ধে, বৃহত্তরভাবে দেখতে গেলে পিতৃত্বের বিরুদ্ধে। এর সাজা লঘু হলে বাকিরা উৎসাহিত হবে। হাড়হিম অপরাধ বললেও ছোট বলা হবে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১২ মে রাতে পরিকল্পনা করেই চিকেন কিনে আনে টোটো চালক বাবা। বাবার আনা চিকেন আনন্দের সঙ্গে রান্না করতে যায় তার একমাত্র কন্যা সন্তান। কিন্তু চিকেন নিজেই রান্না করবে বলে আসামী কাউকে সেখানে ঘেঁষতে দেয়নি। তারপর নিজের জন্য চিকেন সরিয়ে রেখে খাবারে নেশা দ্রব্য মিছিয়ে নিজের স্ত্রী, মেয়ে ও আরও দু’টি নাবালক ছেলেকে খাইয়ে দেয়। রাতে সবাই যখন গভীর নিদ্রায় চলে যায় তখনই পাশবিক ভাবে মেয়েকে ধর্ষণ করে। গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষত উঠে আসে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে। বিচারকের রায় দানেও তার উল্লেখ রয়েছে। এরপর ধর্ষণের প্রমাণ লোপাট করতে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেয়ের। মেয়ে মারা যাওয়ার পর সেই দড়ি দূরের ডাস্টবিনে ফেলে আসে। মেয়েকে পুনরায় পোশাক পরিয়ে চাদর ঢাকা দিয়ে দেয়। সকালে মা উঠার পর মেয়ের দেহ থেকে চাদর সরাতেই দেখে নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। এরপর মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেয় অভিযুক্ত। তারপরই মায়ের আর্তনাদে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।



