Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেয়েকে ধর্ষণ-খুনে বাবার ফাঁসির সাজা , বিরলের মধ্যে বিরলতম, মন্তব্য বিচারকের

নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুনের অপরাধে এক ব্যক্তির ফাঁসির সাজা হল আসানসোল পকসো কোর্টে। বুধবার বিচারক সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে এই রায়দান হয়।

মেয়েকে ধর্ষণ-খুনে বাবার ফাঁসির সাজা , বিরলের মধ্যে বিরলতম, মন্তব্য বিচারকের
  • ৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুনের অপরাধে এক ব্যক্তির ফাঁসির সাজা হল আসানসোল পকসো কোর্টে। বুধবার বিচারক সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে এই রায়দান হয়। আসানসোল কোর্টের ইতিহাসে ফাঁসির সাজা ঘোষণা বিরল ঘটনা। এই অপরাধকে বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা বলে উল্লেখ করে বিচারক তার ব্যাখ্যা করেন। ৮০ পাতার অর্ডার কপিতে বিচারকের মন্তব্য, ‘নিজের ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে বাবা, মায়ের কাছে শুয়ে থাকা মেয়ে যদি ধর্ষিত হয় তাহলে সে কোথায় সুরক্ষিত! সব মেয়ের কাছেই বাবা তাঁর চাইল্ডহুড হিরো। সে-ই এই ঘটনা ঘটাল। যে নিজের মেয়েকে লালসার শিকার করছে তার টোটোয় কোন মেয়ে সুরক্ষিত থাকবে? তিনি বলেন, আমি একটাও কারণ খুঁজে পাচ্ছি না, যেখানে তাকে ফাঁসির সাজা না দেওয়া যায়। কারণ এই ধর্ষণ ও খুন পরিকল্পনা মাফিক ঠান্ডা মাথায় করা হয়েছে। চরমতম অপরাধ করার পর প্রমাণ লোপাটেরও চেষ্টা হয়েছে। তিনি অর্ডারের শেষ ভাগে লিখেছেন, এই অপরাধ শুধুমাত্র সামাজিক অপরাধ নয়, এই অপরাধ মানবতার বিরুদ্ধে, বৃহত্তরভাবে দেখতে গেলে পিতৃত্বের বিরুদ্ধে। এর সাজা লঘু হলে বাকিরা উৎসাহিত হবে। হাড়হিম অপরাধ বললেও ছোট বলা হবে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১২ মে রাতে পরিকল্পনা করেই চিকেন কিনে আনে টোটো চালক বাবা। বাবার আনা চিকেন আনন্দের সঙ্গে রান্না করতে যায় তার একমাত্র কন্যা সন্তান। কিন্তু চিকেন নিজেই রান্না করবে বলে আসামী কাউকে সেখানে ঘেঁষতে দেয়নি। তারপর নিজের জন্য চিকেন সরিয়ে রেখে খাবারে নেশা দ্রব্য মিছিয়ে নিজের স্ত্রী, মেয়ে ও আরও দু’টি নাবালক ছেলেকে খা‌ই঩য়ে দেয়। রাতে সবা‌ই যখন গভীর নিদ্রায় চলে যায় তখনই পাশবিক ভাবে মেয়েকে ধর্ষণ করে। গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষত উঠে আসে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে। বিচারকের রায় দানেও তার উল্লেখ রয়েছে। এরপর ধর্ষণের প্রমাণ লোপাট করতে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেয়ের। মেয়ে মারা যাওয়ার পর সেই দড়ি দূরের ডাস্টবিনে ফেলে আসে। মেয়েকে পুনরায় পোশাক পরিয়ে চাদর ঢাকা দিয়ে দেয়। সকালে মা উঠার পর মেয়ের দেহ থেকে চাদর সরাতেই ঩দেখে নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। এরপর মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দেয় অভিযুক্ত। তারপরই মায়ের আর্তনাদে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

Advertisement

এই মামলায় নিখুঁত তদন্ত করে পুলিস। ডিএনএ পরীক্ষা থেকে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করেন। এদিন রায়দানের জন্য যখন গুণধর পিতাকে আনা হয়, তখন এজলাসের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার পর এজলাসে আলো ফিরে আসে। এজলাসের এক কোণে বলেছিলেন মেয়েটির মা। তিনি এই মামলার অভিযোগকারী এবং অপরাধীর স্ত্রী। স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড সাজা শোনানোর সময়ে কেঁদে উঠলেন তিনি। যদিও ভাবলেশহীন ছিল অপরাধী। বিচারক নির্যাতিতার মাকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। 
ঘটনার পরই হীরাপুর থানায় সরকারি আইনজীবী সোমনাথ চট্টোরাজকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন ডেপুটি পুলিস কমিশনার সন্দীপ কাররা। তিনি বলেন, পশ্চিম বর্ধমান জেলায় স্বাধীনতার পর প্রথম মৃত্যুদণ্ডের সাজা হল। হীরাপুর থানার পুলিস ও সরকারি আইনজীবী নিখুঁত কাজের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার মাত্র এক বছর তিন মাসের মধ্যে ঐতিহাসিক রায় দান হয়েছে। 
 আদালতে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ