সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে শুরু হওয়া কালীপুজো এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের বাঁশতলার বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, তিরিশের দশকে কলকাতার ব্যারিস্টার গিরিজাভূষণ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাঁশতলার জঙ্গল এলাকায় কলকাতার ‘গৌরবাবু’ বাস শুরু করেন। গৌরবাবুরা ছিলেন তিন ভাই। সে সময় তাঁদের পরিবারের এক মেয়ে নলবনা জঙ্গলের পাশে রেললাইনে গিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাস্থলের পাশেই মেয়ের বাবা জঙ্গলে একটি কালীমূর্তি তৈরি করে পুজো শুরু করেন। পরে গিরিজাভূষণের উদ্যোগেই বাঁশতলায় ‘বোধনা’ রেলস্টেশন তৈরি হয়। এখন সেই স্টেশনের নাম বদলে হয়েছে বাঁশতলা। পরবর্তীকালে সত্তরের দশকে হাওড়ার বিখ্যাত ব্যবসায়ী তারাপদ সাউ এখানে কড়াই তৈরির কারখানা ও কৃষি খামার তৈরি করেন। সেইসময় থেকে তারাপদবাবুর উদ্যোগে নলবনার কালীপুজো চলতে থাকে। এই কালীপুজোয় আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সহ বহু বিশিষ্টজন আসতেন।
তারাপদবাবুর উদ্যোগে ১৯৪১ সালে এখানে কালীমন্দির হয়। কলকাতা থেকে আসা মানুষজন এখান থেকে সবাই উঠে গেলে পরবর্তীকালে বাঁশতলা, নলবনা সহ পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দারা এই কালীপুজো চালিয়ে যেতে থাকেন।
ঝাড়গ্রামের প্রখ্যাত চিকিৎসক তাপস মুখী ২০০৯ সালে নিজস্ব উদ্যোগ ও স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এই কালীমন্দিরের সংস্কার করেন। নতুন বড় মাপের মন্দির নির্মাণ করে দেন তিনি। সপ্তাহের প্রতি মঙ্গল ও শনিবার এবং প্রতি মাসের পূর্ণিমা, অমাবস্যায় মায়ের পুজো হয়। মন্দিরে রয়েছে কালীপ্রতিমা। দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে তান্ত্রিক মতে এখানে বলি চালু হয়েছে। এই মন্দিরের পুরোহিত কিন্তু মাহাত-কুড়মি সম্প্রদায়। প্রতিবছর কালীপুজোয় ঝাড়গ্রাম শহর ও আশপাশের লোকজন এখানে মানতের জন্য ভিড় করেন।
নলবনা গ্রামের বাসিন্দা নির্মল মাহাত বলেন, পূর্বপুরুষদের কাছে শুনেছি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতার কিছু লোকজন সেখানে বসবাস শুরু করেন। তাঁদের হাত ধরেই পুজো শুরু হয়। আমরা বহু বছর আগে রেলে কাজ করতে আসা লোকজনদের থেকে ৫০ পয়সা করে সাহায্য নিয়ে এই পুজো চালিয়ে এসেছি। কালীপুজোর দিন এখানে ভক্তর ঢল নামে। পুজোর পরের দিন ঝাড়গ্রামের ডাক্তারবাবু তাপস মুখীর উদ্যোগে কয়েক হাজার ভক্তকে খিচুড়িভোগ খাওয়ানো হয়।