


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ‘বাবা বৈধ হলে ছেলে কীভাবে ভোটার তালিকায় অবৈধ?’ এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় এমনই স্লোগান তুলে বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দারা। সোমবার সাতসকালে জাতীয় পতাকা হাতে খানাকুলের বলপাই এলাকার রাস্তা অবরোধও করেন বিক্ষোভকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিনই আরামবাগে এসডিও অফিসের ১ নম্বর ঘরে এসআইআর-এর হেল্প ডেস্ক খোলা হয়। সেখানে অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও বাসিন্দাদের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া বহু ‘বৈধ’ ভোটার নিজেদের নাম তালিকায় তুলতে আবেদন জানান।
মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় যাঁদের নাম ডিলিট হয়েছে, তাঁদের আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাকে প্রয়োজনীয় নথি, শুনানির নোটিস, বুথ নম্বর সহ আবেদন করতে হবে। একটি ফর্মও পূরণ করতে হচ্ছে। প্রথম দিনে বিকাল পর্যন্ত প্রায় ৫০টি আবেদন এসেছে। অনলাইনেও এই আবেদন করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এসআইআরের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে ধাপে ধাপে। তাতেই দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন বুথে শতাধিক ভোটারের নাম বাতিল হয়ে গিয়েছে। অনেকের দাবি, বাবা, মায়ের নাম থাকলেও ছেলে-মেয়েদের নাম তালিকায় নেই। তাতেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।। এদিন খানাকুলের বলপাই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অবরোধে শামিল হন। তার জেরে নতিবপুর থেকে ঝিকিরা হয়ে হাওড়ার রাস্তায় যান চলাচল সাময়িক ব্যাহত হয়। পরে খানাকুল থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকালে সেখানকার বাসিন্দারা খানাকুল-২ বিডিওর সঙ্গে দেখা করতে যান। জানা গিয়েছে, প্রশাসনের তরফে ভোটারদের তালিকায় নাম তোলার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, আবেদনের প্রক্রিয়া হাতে-কলমে দেখিয়েও দেওয়া হয়। অফলাইন পদ্ধতিতে কীভাবে আবেদন করা যাবে তার প্রক্রিয়া জানানো হবে বলে প্রশাসন আশ্বাস দেয়।
বলপাই বেলদ গ্রামের বাসিন্দা শেখ জিয়াবুল ইসলাম বলেন, বাবা, মা সহ বাড়ির অনেকের নাম আছে। কিন্তু, আমার ও দাদার নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে। বাবা, মা তালিকায় বৈধ হলে আমরা কীভাবে অবৈধ হচ্ছি। নির্বাচন কমিশনের এমন কাজে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের ২৫৬ নম্বর বুথের ১৫৫ জন ভোটার বিচারাধীন ছিলেন। সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় মাত্র ১৯ জনের নাম উঠেছে। ১৩৬ জনের নাম ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
গোঘাটের পশ্চিমপাড়া পঞ্চায়েতেরও একাধিক বুথে বহু ভোটারের নাম বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেখানকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ফরিদ খান বলেন, বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রত্যেকেই বৈধ ভোটার। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোট দিচ্ছেন। অনেকের আবার ২০০২ সালের তালিকাতেও নাম রয়েছে। কমিশন বিজেপির অঙ্গুলি হেলনে চলছে, এটা পরিষ্কার।
পুরশুড়ার বিজেপি প্রার্থী বিমান ঘোষ বলেন, এসআইআরের কাজ নির্বাচন কমিশন করছে। বৈধ ভোটার হলে তাঁর ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে। নাম তোলার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া চলছে।