তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: মেয়ের পছন্দ করা জামাইকে মেনে নিতে পারছেন না বাবা। তবে মেয়ে ফিরে আসতেও নারাজ। কিন্তু হিসেব অনুযায়ী মেয়ের বয়স ১৭ বছর ৩৬০ দিন, অর্থাৎ নাবালিকা। নবদম্পতিকে সবক শেখাতে শেষ পর্যন্ত আইনের সাহায্য নিয়ে জামাইকে শ্রীঘরে পাঠালেন শ্বশুরমশাই। ঘটনাটি ঘটেছে এনজেপি থানার অন্তর্গত জ্যোতির্ময় কলোনি এলাকায়। জানা গিয়েছে, ওই এলাকার বাসিন্দা এক কিশোরীর সঙ্গে এলাকারই এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি কিশোরীর বাবা। যা নিয়ে নিত্যদিন কিশোরীর বাড়িতে ঝগড়া ঝামেলা লেগেই থাকত। গত সোমবার রাতে ফের ঝামেলা শুরু হতেই মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেন তাঁর বাবা। রাতেই ওই যুবককে কিশোরী ফোন করে ডাকে। যুবকের সঙ্গে তাঁর বাড়িতে চলে যায় ওই কিশোরী। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলে কিশোরীকে বিয়ে করে নেন যুবক। এরপরেই কিশোরীর বাবার রাগ সপ্তমে পৌঁছয়। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কয়েকবার ঝগড়াও করেন তিনি। এমনকী এলাকার নেতা গোছের মানুষদের কাছে গিয়ে দরবারও করেন। কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারেন যে কোনভাবেই মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না ঠিক তখনই অন্য ফন্দী আঁটেন তিনি। মেয়ের সমস্ত নথিপত্র ঘেঁটে তাঁর বয়স হিসেব করে দেখেন মেয়ের বয়স হয়েছে ১৭ বছর ৩৬০ দিন। হিসেব মিলে যাওয়ার পরেই সটান এনজেপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত যুবককে নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করার অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাপা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি আইনের সুযোগ নিয়ে ছেলেটিকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে পুলিশের যুক্তি, আইন মোতাবেক ওই মেয়েটি নাবালিকা। অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে যুবককে গ্রেফতার করতে পুলিশ বাধ্য।



