Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছেলের পিটুনিতে মৃত্যু বাবার, সত্কারের আগে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত পুলিসের

আকন্ঠ মদ খেয়ে এসে বাড়িতে বাবার সঙ্গে তুমুল অশান্তি শুরু করে ছেলে। মদ্যপ ছেলের এহেন মূর্তি দেখে প্রতিবাদ করেন বাবা। সেই রাগে কাঠের বাটাম দিয়ে বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে।

ছেলের পিটুনিতে মৃত্যু বাবার, সত্কারের আগে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত পুলিসের
  • ৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: আকন্ঠ মদ খেয়ে এসে বাড়িতে বাবার সঙ্গে তুমুল অশান্তি শুরু করে ছেলে। মদ্যপ ছেলের এহেন মূর্তি দেখে প্রতিবাদ করেন বাবা। সেই রাগে কাঠের বাটাম দিয়ে বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে। এমনই দাবি স্থানীয়দের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে গাজোলের সালাইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইদাম গ্রামে। শুক্রবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় গণেশ মণ্ডলের (৫৫)। স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে শনিবার শেষকৃত্যের আগেই দেহ আটকায় গাজোল থানার পুলিস। এদিন ওই মৃতদেহ ময়নাতদন্ত পাঠানো হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে অজয় মণ্ডলকে (৩৫) আটক করেছে পুলিস। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণেশবাবুর এক ছেলে এবং এক মেয়ে। দু’সন্তানের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে অজয় ভিনরাজ্য কাজ করত। সপ্তাহ খানেক আগে ছেলে গাজোলে নিজের বাড়িতে আসে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলের মধ্যে বচসা হয়। এদিন কাঠ দিয়ে বাবাকে আঘাত করলে অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তখন পরিবার বাড়িতে চিকিৎসক এনে গণেশবাবুর প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। কিন্তু, শুক্রবার তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে স্থানীয়দের পরামর্শে মালদহ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অসুস্থতার কথা বলে তাঁকে ভর্তি করে বাড়ির লোক। কিন্তু রাতে চিকিৎসা চলাকালীন গণেশের মৃত্যু হয়।গ্রামের বাসিন্দা জগদীশ মণ্ডল, বিশ্বনাথ এবং জনার্দন সরকার বলেন, ছেলেটা খুব মদ খেয়ে মাঝেমধ্যে ওর বাবার সঙ্গে ঝামেলা করত। এদিন ছেলে বাবাকে কাঠ দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমরা তাঁর মৃত্যুর খবর পাই। কিন্তু শুনতে পাই, হাসপাতালে ভর্তি করার সময় মারধরের বিষয়টি পরিবার লুকিয়ে গিয়েছে। সেজন্য মৃত্যুর পর দেহ ময়নাতদন্ত না করে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসছিল। স্থানীয়রা পুলিসকে খবর দিলে মাঝপথে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃতের স্ত্রী আদরি মণ্ডল বলেন, স্বামীকে কাঠ দিয়ে ছেলে মারলে পড়ে যান। তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হলে মৃত্যু হয়।
গাজোল থানার পুলিস জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলেকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ