বিশেষ সংবাদদাতা, রায়পুর: বুধবার জন্মদিন। দাদা ও মায়ের সঙ্গে আগেই দাদুর বাড়িতে গিয়েছিল ছোট্ট মেয়েটি। বাবা কথা দিয়েছিলেন, মেয়ের জন্মদিনে বাড়ি ফিরে একসঙ্গে আনন্দ হবে। কিন্তু সেই কথা আর রাখতে পারলেন না তিনি। ৬ বছরের মেয়ের জন্মদিনের দু’দিন আগেই মাওবাদীদের পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় সুকমা জেলার এএসপি আকাশ রাও গিরিপুঞ্জের। মঙ্গলবার বাড়িতে ফেরে তাঁর কফিনবন্দি দেহ। এরপর তাঁর শেষকৃত্যে মুখাগ্নি করল ৭ বছরের ছেলে।
এদিন রায়পুরের মহাদেব ঘাট মুক্তিধামে নিহত পুলিস অফিসারকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। তাঁর মরদেহ চিতায় তোলার আগে ছেলে বাবাকে শেষবারের মতো প্রণাম জানায়। তখন একটু দূরেই এক আত্মীয়ের কোল থেকে নিথর বাবার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়েছিল ৬ বছরের মেয়ে। কান্নায় ভেঙে পড়েন গিরিপুঞ্জের স্ত্রী। বারবার তেরঙায় ঢাকা ছেলের দেহের উপর হাত বোলাচ্ছিলেন বৃদ্ধ বাবা-মা। ছোট ভাই আদর্শের কথায়, দাদা অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। সোমবার সকালে একটা ফোন আসে। বলা হয় আমার দাদা আইইডি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন। আধঘণ্টা পর আবার ফোন আসে। জানানো হয়, দাদা আর নেই।
মঙ্গলবার সকালে পুলিস আধিকারিকের মরদেহে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই। এরইমাঝে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তাঁর সাফ বার্তা, ‘অতিরিক্ত পুলিস সুপার গিরিপুঞ্জের আত্মবলিদান বৃথা যাবে না। বস্তার থেকে মাওবাদীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত আমরা থামব না। সন্তানের সঙ্গে এএসপি আকাশ রাও গিরিপুঞ্জে।