নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রাস্তার ধারে বাড়ি। তার দোতলার বারান্দায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এক যুবককে কোপানো হচ্ছে। পিছন থেকে তাঁকে ধরে আছেন একজন। এদিকে একের পর এক কোপ পড়ছে। ক্ষতবিক্ষত হাত ভেসে যাচ্ছে রক্তে। রাস্তা থেকে এলাকাবাসীরা চিৎকার করছেন। থামতে বললেও থামছেন না হামলকারীরা। মঙ্গলবার বাগুইআটি থানার কেষ্টপুরের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ জখম যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তারপরই সামনে আসে এই ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে, দুই ছেলেকে নিয়ে প্রথমপক্ষের সন্তানকে ধারালো অস্ত্রের কোপ দিয়ে দিয়েছেন বাবা। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই ছেলে পলাতক। এই নৃশংস ঘটনায় ধৃতদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কিছুদিন আগেই জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে নিউটাউনে বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অস্ত্র নিয়ে হামলা কেষ্টপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বাবার নাম বাচ্চু ফকির। তাঁর দুই বিয়ে। প্রথমপক্ষের সন্তান হলেন মিঠু খান। দ্বিতীয়পক্ষের আরও দুই ছেলের নাম ঈশান খান ও নিশাদ খান। সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক। কেষ্টপুরের ১৬ ফুট এলাকায় তাঁদের বাড়ি। মঙ্গলবার বাড়িতে আচমকা বচসা শুরু হয়। তারপর তা হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, অশান্তি চলাকালীন দ্বিতীয়পক্ষের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাবা বাচ্চু ফকির মিঠুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান। তিনজন মিলেই লাঠি, রড দিয়ে মারধর করে এবং অস্ত্র দিয়ে কোপায় বলে অভিযোগ।
তাতে গুরুতর জখম হন মিঠু। পথচলতি মানুষ হামলা দেখতে পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিডিয়ো পোস্ট করেন। এরপরে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং পুলিশ জখম মিঠুকে উদ্ধার করে। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওইদিনই মিঠুর স্ত্রী বাগুইআটি থানায় তিনজনের বিরুদ্ধ অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে, হামলাকারী দ্বিতীয়পক্ষের দুই ছেলে ঈশান ও নিশাদ পলাতক। খোঁজ চলছে।
হামলার সেই মুহূর্ত।