Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফারারি নিয়ে বেপরোয়া বাবা-ছেলে, সাতসকালে ভিক্টোরিয়ার সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় জখম ৩

৩০০০ সিসির ইঞ্জিন। ৩৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত উঠতে পারে গতি। গাড়ির নাম ফারারি ২৯৬ জিটিবি। দাম ৫ কোটি ৪৫ লক্ষ।

ফারারি নিয়ে বেপরোয়া বাবা-ছেলে, সাতসকালে ভিক্টোরিয়ার সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় জখম ৩
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৩০০০ সিসির ইঞ্জিন। ৩৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত উঠতে পারে গতি। গাড়ির নাম ফারারি ২৯৬ জিটিবি। দাম ৫ কোটি ৪৫ লক্ষ। বিলাসবহুল এই টু-সিটার স্পোর্টস কার নিয়ে বুধবারের সকালে শহরে চক্কর দিতে বেরিয়েছিলেন বাবা-ছেলে। পিজির কাছে ডি এল খান রোড ক্রসিং পার করে ভিক্টোরিয়ার সামনে ‘হাইপার রাইডিং’-এর শখ জাগে বাবার! তাঁর হাতেই ছিল স্টিয়ারিং। অ্যাক্সিলেটর প্যাডেলে যাবতীয় ‘অ্যাড্রেনালিন’ নিংড়ে দেন পাইলট। তাতেই ঘটল ভয়ানক বিপত্তি। চোখের পলকে গাড়ি ঊর্ধ্বগতি নিতেই স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। এক সাফাইকর্মীকে ধাক্কা মারে গাড়িটি। তারপর একটি ল্যাম্পপোস্ট ও দু’টি গাছে ধাক্কা মেরে প্রায় ৫০ মিটার পর্যন্ত পাল্টি খেতে খেতে খেলনার মতো ছিটকে যায় ফারারি। শেষমেশ রেসকোর্সের রেলিংয়ে ধাক্কা মেরে থেমে যায়। সাড়ে ৫ কোটির গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভেঙে গিয়েছে দরজা। রাস্তার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছেন সাফাইকর্মী। গাড়িতে অচেতন বাবা-ছেলে। দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে ভবানীপুর ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ। জখম তিন জনকে উদ্ধার করে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন গাড়ির চালক অমৃত সিং সাইনি। পাশের আসনে থাকা তাঁর ছেলের আঘাত গুরুতর নয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ৫৫ বছর বয়সি সাফাইকর্মী রাশিদা বিবির অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর মামলা রুজু করেছে হেস্টিংস থানা। দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর লালবাজার সূত্রে। 

Advertisement

গাড়ির নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ জেনেছে, নম্বরপ্লেটটি মহারাষ্ট্রের। দেড় বছর আগে নামী গাড়ি কোম্পানির ডিলারশিপের নামে ঋণ নিয়ে কেনা হয় এই বিলাসবহুল ফারারি। সেই ডিলার ও তাঁর একমাত্র পুত্র ছিলেন গাড়ির মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা নিউ আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। মাঝেমধ্যেই সকালে ফাঁকা রাস্তায় ড্রাইভে বেরন দু’জনে। কিংস ওয়ে, কুইনস ওয়ে, হসপিটাল রোড, রেড রোড থেকে মা ফ্লাইওভারে চলে স্পোর্টস কারের গতির খেলা। এদিন সকালে সেভাবেই বেরিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বেপরোয়া গতির কারণেই অমৃত সিং গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। সেখানেই রাস্তা সাফাই করছিলেন রাশিদা বিবি। গাড়িটি পাল্টি খেতে খেতে তাঁকে ধাক্কা মারে। রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন রাশিদা।  
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ডি এল খান রোড ক্রসিং পার করে জোরালো শব্দ করে গতির ঝড় তোলে গাড়িটি। তখনই নিয়ন্ত্রণ হারান চালক। গাড়ির গতি এতটাই বেশি ছিল যে একটি ল্যাম্পপোস্ট গোড়া থেকে বেঁকে একদিকে হেলে পড়ে। একটি গাছও ভেঙে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ‘পয়েন্ট অব ইম্প্যাক্ট’ বা দুর্ঘটনার ঘটার ঠিক আগের মুহূর্তে গাড়ির গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ কিমির কাছাকাছি ছিল। যে কারণে ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির দু’টি এয়ারব্যাগ ফেটে যায়। গাড়িটির পিছনের অংশ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নম্বরপ্লেট তুবড়ে গিয়েছে। ডানদিক ও বাঁদিকের দরজা ভেঙে আটকে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা কেটে বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করা হয়। লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে, মাস পাঁচেক আগে গাড়িটির পলিউশন সার্টিফিকেটের মেয়াদ ফুরিয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ