সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ফল বিক্রির আড়ালে অস্ত্র কারবার চালানোর অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। সোমবার গভীর রাতে সামশেরগঞ্জের প্রতাপগঞ্জ উত্তরপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম আনারুল ইসলাম ও ছেলে টিঙ্কু শেখ। ধৃতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি পিস্তল সহ আরও বেশ কয়েকটি ধারালো অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। ধৃতের অপর এক ছেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ধৃতদের এদিন জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বাবা ও ছেলের পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতের পলাতক ছেলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। ওয়াকফ আইন নিয়ে সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ানে অশান্তির ঘটনাতেও তাদের যোগ পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার অমিতকুমার সাউ বলেন, গত কয়েকদিন থেকে এলাকায় বোমা ও অস্ত্র উদ্ধারের ধারাবাহিক চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। একটি বাড়ি থেকে দু’টি পিস্তল ও কিছু ধারালো অস্ত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বাড়ির মালিক সহ তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে অশান্তির ঘটনায় তাদের কী ভূমিকা ছিল তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ানে অশান্তির তদন্তে নামে পুলিস। এলাকার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তাদের চিহ্নিত করে পুলিস। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দেখা গিয়েছে বলে পুলিসের দাবি। পুলিস রাতে প্রতাপগঞ্জে ধৃতের বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশি চালাতেই বাক্সের ভিতরে থেকে একটি কান্ট্রি মেড ও আরও একটি সেভেন এমএম পিস্তল উদ্ধার হয়। এছাড়াও ঘরের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুরি ও ভোজালি সহ ছ’টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিস। ফল ব্যবসার আড়ালে ভিতরে অস্ত্র কারবার চালাচ্ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিস। সামশেরগঞ্জের ধুলিয়ান ডাক বাংলায় অশান্তির সময় দুষ্কৃতীদের তারা অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দুই ছেলের নামে একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ থাকলেও আনারুলকে ফল ব্যবসায়ী হিসেবেই জানে এলাকাবাসী। ডাক বাংলায় তার একটি ফলের দোকান রয়েছে। তবে তার বাড়ি দু’টি পিস্তল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারে হতবাক এলাকাবাসী।
প্রসঙ্গত, মাসখানেকের বেশি সময় আগে ওয়াকফ আইন বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে সামশেরগঞ্জের একাধিক এলাকা। বাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। একাধিক বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় অশান্তি পাকানোর অভিযোগে তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে ৩২৯জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। অস্ত্র কারবারে ধৃতরা।