Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফার্মের মরা মুরগি বিক্রি খোলা বাজারে, রোগ ছড়ানোর আতঙ্ক

ফার্মের মরে যাওয়া মুরগি বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে। সেই মুরগি কিনে খাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফার্মের মরা মুরগি বিক্রি খোলা বাজারে, রোগ ছড়ানোর আতঙ্ক
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শালবনী: ফার্মের মরে যাওয়া মুরগি বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে। সেই মুরগি কিনে খাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকী পিকনিকেও রান্না হচ্ছে মরা মুরগি। শালবনী ব্লকের বুড়িশোল এলাকার এই ঘটনায় আতঙ্কিত একাধিক গ্রামের মানুষ। কারণ, মরা মুরগি থেকে নানা রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়। কিছু অসাধু বিক্রেতা জলের দরে মরা মুরগি কিনে বিক্রি করছেন। বুড়িশোল এলাকার গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, মরে যাওয়া মুরগি ফার্মের পাশেই রাখা হচ্ছে। পচে যাওয়া সেই মুরগি রাস্তার কুকুর, বিড়াল টেনে নিয়ে আসছে গ্রামে। একইসঙ্গে লুকিয়ে অনেকেই মরা মুরগি খাচ্ছেন। এর ফলে নানা রোগ বিরোগ দেখা দিচ্ছে।

Advertisement

এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জঙ্গলে ঘেরা শালবনীর বুড়িশোল গ্রামে মূলত আদিবাসী ও মূলবাসীদের বসবাস। সবাই নিম্নবিত্ত। এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি মুরগির ফার্ম আছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেই ফার্মে মুরগি মারা গেলে সরকারি নিয়ম অনুসারে কোনও পদক্ষেপ করা হয় না। বরং পরিত্যক্ত জায়গায় মৃত মুরগিগুলি ফেলে রাখা হয়। এরপর বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে সেই মুরগি বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যায়।এক গ্রামবাসীর কথায়, বাজারে ২০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি হলেও মরা মুরগি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। গ্রামের দরিদ্র মানুষ কম টাকায় সেই মুরগি কেনেন। আগেও এই ফার্ম থেকে মরা মুরগি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। সুযোগ বুঝে ফের অসাধু ব্যবসায়ীরা সেই কাজ শুরু করেছে। বেতকুন্দ্রী, পিরচক এলাকায় এই মুরগি বিক্রি হয়।স্থানীয় বাসিন্দা জিৎ পাল বলেন, এই ফার্ম বহুদিন ধরেই রয়েছে। ফার্মের ভিতরে প্রচুর মুরগি রয়েছে। শুনেছি মুরগি মরে যাওয়ার পর অনেকেই নিয়ে আসেন। কেন মুরগি মরে যাচ্ছে জানা নেই। হয়তো তীব্র গরমের জন্য মরে যাচ্ছে। যদিও সাফাই দিতে ব্যস্ত ফার্মের আধিকারিকরা। ফার্মের কর্মী বাবলু মান্না বলেন, মুরগি কোথায় বেশি পরিমাণে মারা যাচ্ছে। অল্প যেটুকু হচ্ছে সব ফার্মেই হয়। এনিয়ে কিছু বলার নেই। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিম উৎপাদনে রেকর্ড গড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। গত অর্থবর্ষে শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১৯০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে। এখন ডিম উৎপাদনে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই জেলা মাংস উৎপাদনেও এগিয়ে। বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদন ও ব্রিডার পোল্ট্রি খামার স্থাপনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ উৎসাহ প্রদান প্রকল্প বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় ডিম উৎপাদন বেড়েছে। জেলায় ফার্মের সংখ্যাও বেড়েছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সত্ত্বেও কীভাবে মরা মুরগি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শালবনীর বিডিও রোমান মণ্ডল বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সরকারি নিয়ম মেনে কাজ না করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ