Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফসল তোলার মুখেই শোষক পোকার হানা, চিন্তায় চাষিরা

অন্য বছরের তুলনায় এবছর পুরুলিয়া জেলায় বৃষ্টি ভালোই হয়েছিল। সেই কারণেই সঠিক সময়ে আমনের চারা রোপণ করায়  ধানের ভালো ফলন হয়েছে এবার।

ফসল তোলার মুখেই শোষক পোকার হানা, চিন্তায় চাষিরা
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: অন্য বছরের তুলনায় এবছর পুরুলিয়া জেলায় বৃষ্টি ভালোই হয়েছিল। সেই কারণেই সঠিক সময়ে আমনের চারা রোপণ করায়  ধানের ভালো ফলন হয়েছে এবার। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। একেবারে শেষ বেলায় এসে শোষক পোকার আক্রমণে আমনের চারার অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি জেলার সিংহভাগ কৃষকের। তাঁদের অভিযোগ, ধান কাটার মরশুমে এসে দেখা যাচ্ছে যেখানে শোষক পোকা হানা দিয়েছে, ওই জায়গার ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সেই কারণে জমির একাংশে ধান শুকিয়ে নষ্টও হয়েছে। অনেকেই আক্রান্ত হওয়া জায়গার ধান তড়িঘড়ি কেটে বাড়িতে তুলেছেন। যদিও পুরুলিয়ার উপ কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) আদিত্য দুয়ারী জানাচ্ছেন, শোষক পোকার আক্রমণে ধানের ক্ষতির কোনও অভিযোগ পাইনি।  এই মূহূর্তে ক্ষতির তেমন সম্ভাবনা নেই।  ক্ষতি এড়াতে দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার প্রয়োজন।

Advertisement

জঙ্গলমহল পুরুলিয়া জেলার অধিকাংশ জমিই বৃষ্টিনির্ভর। এই জেলায় মূলত আমনের চাষের উপর বেশি জোর দেন কৃষকরা। আষাঢ়, শ্রাবণে এই চাষেই লাভের মুখ দেখেন কৃষকরা। যদিও বিগত কয়েক বছর জেলায় বৃষ্টি তুলনামূলকভাবে না হওয়ায় আমনের ফলন তেমন হয়নি। এবছর জেলায় ভালো পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়, যা স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। সেই কারণে শ্রাবণ মাসের মধ্যেই আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শেষ করে ফেলেন জেলার সিংহভাগ কৃষক। অধিক বৃষ্টির কারণে জেলার উঁচু জমিগুলিতেও এবছর ধান চাষ হয়েছে। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র তিন মাস জুড়ে নিয়মিত বৃষ্টি হয়েছে। চাষিদের দাবি, সেই কারণে ধানের ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষ বেলায় এসে শোষক প্রকার ব্যাপক আক্রমণ জল ঢেলে দিল। এতে সবারই জমির কিছু না কিছু ফসল নষ্ট হয়েছে।
মানবাজার এলাকার এক কৃষক পরিমল সরেন জানান, শেষ বেলায় জমিতে শোষক পোকার ব্যাপক আক্রমণ কীটনাশক স্প্রে করেও দমানো যায়নি। ধান কাটতে গিয়ে দেখি ওই জায়গার ধান সব নষ্ট হয়েছে।
চাষিদের কথায়, ওই পোকা ধানের গোড়ার দিকে লক্ষ্য করা গিয়েছে। এরপর শোষক পোকা ধানের গোড়ার রস চুষে খেয়েছে ফলে গাছ দ্রুত শুকিয়ে মারা গিয়েছ। পুরুলিয়ার একাধিক এলাকায় এই বাদামি শোষক পোকার আক্রমণ দেখা গিয়েছে। যা বিগত বছরে এতটা দেখা যায়নি বলেই দাবি চাষিদের। কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘন চারা রোপণ করলে এমনকি, বেশি মাত্রায় নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করলে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। সঠিক পরিচর্যা ও সুপারিশকৃত কীটনাশক স্প্রে করলে শোষক পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই মেলে। তবে এবছর শোষক পোকার আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে, এমন অভিযোগ নেই বলেই দাবি জেলা কৃষি দপ্তরের।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ