শিল্পের জমির জন্য কৃষকদের উপর গুলি চলবে না, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পরিবর্তনের বাংলায় নতুন শিল্পনীতির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, বৃহস্পতিবার ইকোপার্কের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, দীপাবলির আগেই রাজ্যে নয়া শিল্পনীতি আনা হল। শিল্পের পরিকাঠামো তৈরিতে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। বর্তমানে এরাজ্যে তোলাবাজি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি কাটমানি-সিন্ডিকেট বন্ধের সব রকমের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ জানালে ১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগের সরকারের আমলে কোনো জমি নীতিই ছিল না বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, মমতার সরকার শিল্পের জমি দিতে আগ্রহীই ছিল না। ঘটা করে শিল্প সম্মেলন হলেও শিল্প কিন্তু বাংলায় আসত না। ফলে উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল। মূলত এইসব কারণেই পিছিয়ে গিয়েছে বাংলা। তবে নতুন সরকার নতুন দিশা এবং দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। বড় শিল্পের জন্য মিলবে আলাদারকমের সুযোগ-সুবিধা। সংস্থাগুলিকে ১২০ শতাংশ সহায়তা করা হবে। মহিলা কর্মীদের কর্মসংস্থানে সর্বাধিক সুবিধা দেওয়া হবে। এমনকী কর্মরত মহিলাদের হস্টেলের জন্য রাজ্য অনুদানও দিতে পারে। উৎপাদনকারী ও অন্যান্য ইউনিটের জন্য বিশেষ সুবিধা মিলবে। এসজিএসটি-র ক্ষেত্রেও দেওয়া হবে আর্থিক সহায়তা। 

Advertisement

অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যেমন- হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড় দেওয়া হবে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ ও পরিষেবা ক্ষেত্র-সহ সব ধরনের ইউনিটকে সুবিধার আওতায় আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এছাড়া পিছিয়ে পড়া এলাকায় বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনে বেশি উৎসাহ দেওয়া হবে। রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবনে বিশেষ সহায়তা করবে রাজ্য সরকার। উৎসাহ দেওয়া হবে সবুজ বিদ্যুৎ ও গবেষণা-উন্নয়নমূলক কাজে। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হিসেবে ১৫টি শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিল্পতালুক এবং শিল্পের জমি নিয়ে নতুন নীতি গ্রহণ করা হবে। তবে শিল্পের জমির জন্য কৃষকদের উপর গুলি চলবে না। বর্তমানে রাজ্যে ২ কোটি শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। ৭০ লক্ষ মানুষ কাজের অভাবে পরিযায়ী শ্রমিক হয়েছেন। আদানি গোষ্ঠী আমাকে জানিয়েছিল যে, তাজপুরে রাজ্য সরকারের এক একর জমিও ছিল না। ফলে তাজপুরে বন্দর তৈরি সম্ভব ছিল না। সিঙ্গুরে কিছু একটা করব। আমার সঙ্গে জনপ্রিয় বাণিজ্যক ভারী গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার কথা হয়েছে। কিন্তু শুধু মউ স্বাক্ষর করে লোক দেখাতে চাই না। আগের সরকার বাণিজ্য সম্মেলন করে শুধুমাত্র মউ স্বাক্ষর করে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। আমরা তা চাই না। 

ক্ষোভের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে চিত্তরঞ্জন-হলদিয়া সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে এই বাংলায় এখন কোনোরকম গুণ্ডাগিরি চলবে না। সংকল্পপত্রে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পালন করব। পাশাপাশি শিল্পনীতি প্রকাশের বৈঠকে লরির ওভারলোডিং নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পোদ্যোক্তাদের লরির ওভারলোডিং এড়ানোর আর্জিও জানান। শেষে শুভেন্দুবাবু বলেন, রাজ্যে বকেয়া উৎসাহ ভাতার অঙ্ক বিপুল। তবে রাজ্যের আর্থিক হাল ফেরাতে পারলে তা নিশ্চই দেব। কারণ, আমরা যা বলি তাই করি। কিন্তু এখনই কবে দেব তা বলা উচিত হবে না।