নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিনিয়োগ নিয়ে মানুষের মনে ভয়, দ্বিধা ও ভুল ধারণা দূর করতে সর্বস্তরে প্রচারে ঝাঁপাচ্ছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া বা সেবি। ‘বুঝে বিনিয়োগ করা সহজ’— এই বার্তা নিয়ে গত মাস থেকে চালু হয়েছে সেবির সচেতনতা উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট জাগরুক’। কলকাতায় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা এনএসই আয়োজিত আঞ্চলিক বিনিয়োগকারী সচেতনতা সংক্রান্ত এক অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন সেবির চেয়ারম্যান তুহিনকান্ত পান্ডে। তিনি বলেন, ‘এতদিন মানুষই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্যের জন্য আসতেন। এখন সময় বদলেছে। বিনিয়োগ শিক্ষাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ভাবনা থেকেই জন্ম প্রজেক্ট জাগরুকের। এই উদ্যোগে এক ছাতার তলায় এসেছে স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি এবং মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থাগুলির সর্বভারতীয় সংগঠন অ্যামফি। সবার একটাই বার্তা, না বুঝে বিনিয়োগ নয়, বুঝে বিনিয়োগই সহজ। এই প্রচার চলছে নানা মাধ্যমে। টেলিভিশন, রেডিয়ো, সংবাদপত্র, ডিজিটাল মাধ্যম এবং সরাসরি যোগাযোগ, কোনো মাধ্যমই বাদ রাখা হচ্ছে না। প্রচার চলছে মানুষের নিজের ভাষায়। বাংলাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় তৈরি হচ্ছে কন্টেন্ট, যাতে গ্রামের মানুষও সহজে বুঝতে পারেন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যাচাই করা তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।’ সঙ্গে রয়েছে সেবি সারথি অ্যাপ, যেখানে বিনিয়োগ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। শিক্ষক, কর্মী এবং সিনিয়র ছাত্রছাত্রীদের বিনিয়োগ শিক্ষায় দক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যাতে তাঁরা নিজেরাই অন্যদের মধ্যে সচেতনতা ছড়াতে পারেন। এমনটাই জানিয়েছেন সেবি কর্তা। গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রচার আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রচারে মিলেছে অভাবনীয় সাড়া, দাবি চেয়ারম্যানের। তিনি জানান, বাংলা ভাষার কন্টেন্ট ভারতজুড়ে প্রায় ২২ লক্ষ বার দেখা হয়েছে। আর প্রথম দুটি প্রচারে ভারতজুড়ে বাংলায় ৩ কোটি ৭০ লক্ষের বেশি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয়েছে। এই সাড়াই প্রমাণ করে, মানুষ বুঝতে চায়, জানতে চায়। তিনি আরও জানান, রাজ্যে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ২০১৫ সালের প্রায় ১২ লক্ষ থেকে বেড়ে এখন প্রায় ৯০ লক্ষ হয়েছে। এ রাজ্যের খুচরো বিনিগোগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি করা সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। সেবির সমীক্ষা বলছে, এদেশের মাত্র ৯.৫ শতাংশ পরিবার শেয়ার বাজারে অংশ নেয়। মাত্র ৩৬ শতাংশ বিনিয়োগকারীর বাজার সম্পর্কে মাঝারি বা উচ্চ মাত্রার জ্ঞান রয়েছে। এই ফাঁক পূরণ করতেই ‘প্রজেক্ট জাগরুক’-এর মতো উদ্যোগ জরুরি বলে দাবি সেবি কর্তার।



