সংবাদদাতা, বহরমপুর: পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে চাষিরা আমনের জমিতে চাষ করতে পারছেন না। এদিকে ধানের চারার বয়স বাড়তে থাকায় চাষিদের উদ্বেগ বাড়ছে। বৃষ্টির উপর ভরসা না করে সাবমার্সিবল চালিয়েই অনেকে জমি ভাঙতে শুরু করে দিয়েছেন। যাঁদের সাবমার্সিবলের সুবিধা নেই, তাঁরা ভারী বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন। আমন চাষিদের দাবি, অন্যান্য বছর জুনের শেষ সপ্তাহে ধান রোপণ অনেক এগিয়ে যায়। এবার তা জলের অভাবেই থমকে রয়েছে। যদিও কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আমন চাষের জন্য সামনে যথেষ্ট সময় পড়ে রয়েছে। এখনই চাষিদের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।
মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়। জুন মাসের শুরু থেকে বা তার আগে চাষিরা বীজতলা করেছেন। চাষিদের দাবি, চারার বয়স ২৫-২৮ দিনের মধ্যে রোপণ সব থেকে উপযুক্ত সময় বলে ধরা হয়। এবার উপযুক্ত সময় পার হতে চলায় চাষিদের চিন্তা বাড়ছে। দিন কয়েক ধরেই জেলাজুড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কিন্তু সে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। বৃষ্টির জল আমন চাষের জমিতে দাঁড়ায়নি। হাল্কা বৃষ্টিতে জমির ঘাস ও আগাছা তরতর করে বেড়েছে। জমিতে পর্যাপ্ত জল না থাকায় চাষিরা এতদিন ট্রাক্টর বা লাঙল নামাতে পারেননি। অবশেষে কেউ কেউ সাবমার্সিবল চালিয়ে জমিতে জল ভরতে শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও চাষিরা জমি ভাঙাতে শুরু করেছেন। ধান চাষে জমিতে একবার চাষ দেওয়ার পর সেই জমির মাটি পচার জন্য দিন কয়েক ফেলে রাখতে হয়। পরে আর একবার চাষ দিয়েই চারা রোপণ করা হয়।
ললিতাপুর মৌজার আমন চাষি প্রশান্ত পাল বলেন, জলের অভাবে এখনও জমি ভাঙতে পারিনি। এদিকে বীজতলার ধানের চারার বয়স চব্বিশ দিন অতিক্রান্ত হতে চলেছে। বিপুল বাগদি বলেন, ক’দিনের ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে রাস্তা কাদা হয়েছে। জমিতে জল দাঁড়ায়নি। বর্ষার চাষেও সাবমার্সিবলের জল কিনে জমি ভাঙতে হচ্ছে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন নবগ্রাম ব্লকে, বড়ঞা ব্লকের ফতেপুর বোলপাড়া মৌজার চাষিরা মঙ্গলবার থেকে জমিতে ট্রাক্টর নামিয়ে চাষ দিতে শুরু করেছেন। দিন কয়েকের মধ্যে চাষিরা চারা রোপণ করতে শুরু করবেন।