নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চাষ করেও মিলছে না সব্জির দাম। তাই রাস্তার উপরে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে পটল, কুমড়ো, শসা, ভেন্ডি। চাষিদের বিক্ষোভ ঘিরে হরিহরপাড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পটল কেজি প্রতি এক-দেড় টাকা দাম পাচ্ছেন চাষিরা। শসা, কুমড়ো, ভেন্ডি, ঝিঙে সব সব্জিরই দাম দু’-পাঁচ টাকা প্রতি কেজি। পাইকারি বাজারে দাম না পেয়ে হরিহরপাড়ায় মিয়ারবাগান বাজারের রাস্তায় সব্জি ফেলে বিক্ষোভ দেখান চাষিরা।
হরিহরপাড়ার চাষি জাকির হোসেন বলেন, সব্জির দাম নেই। বরবটি, পটলের পাশাপাশি অন্যান্য সব্জির দাম পাচ্ছি না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে তিন-চার টাকা কেজি দরে সব ফসল কিনে নিচ্ছেন। কীটনাশক কেনার দামটুকুও নেই। পটল দু’টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই সব্জি বিক্রি করে কত লাভ পাব? তাই আমরা সমস্ত মাল রাস্তায় ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। আমরা তো এবার মরে যাব।
আল আহিম শেখ নামে এক চাষি বলেন, কৃষকরা কোনও সব্জির দাম পাচ্ছেন না। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা-১টা পর্যন্ত বাজারে বসে থাকছি। সব্জি বিক্রি হচ্ছে না। পটল, ভেন্ডি, শসা, বরবটি কোনও সব্জিরই বিক্রি নেই। খুচরো বিক্রেতারা আমাদের কাছ থেকে তিন-চার টাকায় সব্জি কিনে ২০-২৫টাকা প্রতি কিলোগ্রাম দরে বিক্রি করছে। চাষিদের পেটে লাথি মেরে খুচরো ব্যবসায়ীরা এভাবে লাভ করছে।
অপর চাষি আব্দুল রাজ্জাক বলেন, গত ছ’মাস ধরেই সব্জির দাম খুব একটা পাচ্ছি না। দুই-পাঁচ টাকা কেজি দরে সব্জি বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ টাকার উপরে কোনও সব্জির দাম পাচ্ছি না। মুর্শিদাবাদের প্রায় ৯০-৯৫শতাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে খায়। কিন্তু, সব্জির দাম নেই। এক শিশি কীটনাশক কিনতে লাগছে ১০০-১৫০টাকা। পাশাপাশি, রাসায়নিক সার, বীজের পিছনে এত খরচ করার পরেও এক-দেড় টাকা কিলোগ্রাম দরে পটল বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে পারা যায়?
বেলডাঙার বাসিন্দা প্রভাস ঘোষ বলেন, বাজারে সব্জির ভালোই দাম রয়েছে। কোনও সব্জির কেজি ২০-২৫টাকার নীচে নেই। কিন্তু, চাষিরা কেন দাম পাচ্ছেন না? সমস্ত পাইকারি বাজারে এব্যাপারে নজরদারির প্রয়োজন।
বাজারের খুচরো বিক্রেতারা বলেন, বাজারে প্রচুর সব্জি আমদানি হচ্ছে। সেই তুলনায় বিক্রি নেই। চাষির কাছ থেকে সব্জি কেনার পর আমরাও ফেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছি। আর এই বৃষ্টি বাদলের আবহাওয়ায় সব্জি পচে নষ্ট হচ্ছে। আমরা কম দামে কিনছি ঠিকই, কিন্তু সব সব্জি বিক্রি করতে পারছি না।