নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: গাড়িতে করে বাইরে থেকে আসছে ধান। মাপার পর তা গাড়িতে করেই রাইস মিলের উদ্দেশ্যে চলে যাচ্ছে। সাধারণভাবে এমনটা মনে হলেও আসলে ধান রাইস মিলে যাচ্ছে না। তাহলে যাচ্ছে কোথায়? যাচ্ছে ধান ক্রয় কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা মাঠে। কিছুক্ষণ পরে ওই ধান অন্য গাড়িতে করে ফের চলে আসছে ধান ক্রয় কেন্দ্রে। সেই একই ধান এভাবে বার বার কেনা হচ্ছে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র থেকে। এমন অভিযোগে মিলেছে হাসনাবাদ ব্লকের বরুণহাট রামেশ্বরপুর পঞ্চায়েত এলাকা থেকে।
এতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। তাঁদের খেদ, কৃষকদের সরকারিভাবে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। ফঁড়েরা ধান বিক্রি করছেন। আসল কৃষকরা বঞ্চিত। অনেকের আবার টিপ্পনি, এতো সেই শিয়ালের কুমিরছানা দেখানোর মতোই ঘটনা!
বরুণহাটের তিনটি জায়গায় সরকারিভাবে কেনা হচ্ছে ধান। চলছে বোরো মরশুম। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জেলায়। কিন্তু, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়েই বিভিন্ন বিতর্ক ঘটছে বলে অভিযোগ। যেমনটা হয়েছে বসিরহাটের বরুণহাট রামেশ্বরপুর পঞ্চায়েতে। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত অফিসের কিছুটা দূরে চলছে ধান ক্রয় কেন্দ্র। অভিযোগ, এলাকার কোনও কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয় না। অন্য একটি এজেন্সির লোক এসে এখানে ধান বিক্রি করেন। এক বা দু’দিন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এটা চলছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। সেই ধান এনে ওই কেন্দ্রে রেখে তা কেনা হচ্ছে বলে সরকারি আধিকারিকরা ছবি তুলে নেন। পরে সেই ধান গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটি জায়গায় খালি করা হয়। আবার সেই ধানই অন্য একটি গাড়িতে করে এনে ওই ক্রয়কেন্দ্রেই বিক্রি করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীদের দাবি, এই ধান ক্রয় কেন্দ্রটি অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। এখানে সবটাই কালোবাজারি হচ্ছে। এলাকার কৃষকরা এখানে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা খাদ্য নিয়ামক জয়ন্ত রায় বলেন, এই ধরনের অভিযোগ এই প্রথম শুনলাম। তবে, রবিবার কেউ বা কারা ধান বিক্রি করতে এসেছিলেন বরুণহাটের ক্রয় কেন্দ্রে। কিন্তু সেই ধান কেনা হয়নি। তবে, ধান বিক্রির জন্য সরকারের যে নির্দেশ আছে, তা কড়াকড়িভাবে আমরা পালন করছি। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের উপর। আর ধান কেনা নিয়ে যে অভিযোগ উঠছে, তার জন্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সহ সব তথ্য আমরা সংগ্রহ করব।