নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সীমান্ত লাগোয়া নদীয়ার চাপড়া ব্লকের হৃদয়পুর পঞ্চায়েতে ‘নো কাল্টিভেশন ল্যান্ড’ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম জারি করল বিএসএফ। আগে কাঁটাতারের উভয় দিকে ৫০ মিটারের মধ্যে পাটের মতো লম্বা ফসল চাষে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এবার নতুন নিয়মে কাঁটাতার থেকে ভারতের দিকে ২০০ মিটার পর্যন্ত পাট জাতীয় লম্বা ফসল চাষ করা যাবে না। আর এই নিয়মে সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। নিয়মে শিথিলতা আনার জন্য এবার হৃদয়পুর পঞ্চায়েত প্রধান জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি লিখেছেন। যাতে, আগের নিয়মেই চাষ করতে দেওয়া হয় পঞ্চায়েতের চাষিদের। নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখব।
পঞ্চায়েত প্রধান বিউটি খাতুন বলেন, বিএসএফ বিষয়টি আমাদের লিখিতভাবে জানিয়েছে। পরবর্তীতে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। যাতে প্রতিবছরের মতোই চাষ করতে দেওয়া হয়। না হলে চাষিরা সমস্যা পড়বেন। নদীয়া জেলার বাংলাদেশ লাগোয়া পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে অন্যতম চাপড়া ব্লকের হৃদয়পুর। কাঁটাতারের ওপারেই রয়েছে ঐতিহাসিক মুজিবনগর। নিরবিচ্ছিন্ন কাঁটাতার থাকলেও অনুপ্রবেশ, আন্তর্জাতিক পাচারের মতো অপরাধ হওয়ার আশঙ্কা থাকেই। গ্রামের শতাধিক চাষি পাট চাষের কাজের সঙ্গে যুক্ত। সেই চাষের মরশুমও শুরু হতে চলেছে। কিন্তু তার আগে পাটচাষের জমি কমিয়ে দেওয়ায় সমস্যা পড়তে হচ্ছে চাষিদের।
চলতি মাসে হৃদয়পুর এলাকার বিএসএফের ১৬১ ব্যাটালিয়ন তরফ থেকে বলা হয় যে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে লম্বা হয়ে বেড়ে ওঠে এমন ফসল লাগানো যাবে না। কারণ বাংলাদেশের অস্থিরতার কারণে ভারত বিরোধী অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়তে পারে। তেমনই আশঙ্কা করছে বিএসএফ। সেক্ষেত্রে কাঁটাতারের লাগোয়া এলাকায় পাটের মতো লম্বা ফসল অনুপ্রবেশকারীদের সহায়ক হবে। তাই আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে ভারতের দিকে ২০০ মিটার পর্যন্ত পাট চাষ করা যাবে না।
হৃদয়পুরের বাসিন্দা তথা চাপড়া ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম বলেন, বিএসএফ আমাকেও চিঠি করেছিল। তারপর আমরা পঞ্চায়েতে বিষয়টি আলোচনা করি। চাষিদের সুবিধার্থে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকের কাছে চিঠি করা হয়েছে। বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গের জনসংযোগ আধিকারিক নীলোৎপাল পাণ্ডে বলেন, আমরা অনুরোধ করেছি যাতে সীমান্ত এলাকায় উচ্চ ফলনশীল ফসলের চাষ না করা হয়।
প্রসঙ্গত, অতীতে দেখা গিয়েছে, পাট খেতের সুযোগ নিয়ে পাচারের পর চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, আমাদের ইউনিট চাষিদের কাছ অনুরোধ করেছে, যাতে সীমান্তে লম্বা হয়ে বেড়ে ওঠে এমন ফসল চাষ না করে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমরা খুব খুশি যে চাষিরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন।