সংবাদদাতা, ডোমকল: এলাকায় তেমন কাজ ছিল না, তাই ঈদের পরে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন এলাকার বহু দিনমজুর। ভালো মজুরি মেলায় তাঁরা এখনও সেখানেই কাজ করছেন। তবে তাঁরা না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন মহকুমার পাট চাষিরা। মাঠের পাট নিড়ানোর জন্য ওই সব শ্রমিকরা না থাকায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি শ্রমিকের ঘাটতির কারণে রীতিমতো বেশি টাকা খরচ করে পাট নিড়াতে হচ্ছে চাষিদের।
সাধারণত পাট গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে বাড়তে থাকে বিভিন্ন আগাছা। বিভিন্ন কীটনাশক ও সারের কারণে আগাছাগুলিও দ্রুত বেড়ে উঠতে শুরু করে। আগাছাগুলিকে উপড়ে না তুলে ফেললে একসময় পাটের বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত আনে । পাশপাশি আলো-বাতাস আড়াল করে, রোগপোকাকে আশ্রয় দিয়ে সর্বনাশ ডেকে আনে পাটের। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সপ্তাহ কয়েক ব্যবধানে একাধিকবার জমি নিড়িয়ে আগাছাগুলিকে নষ্ট করে ফেলতে হয়। তবে ঘন পাট গাছের গোড়া নিড়ানো বেশ সময় সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য কাজ। এই সময়ে আগাছা নিড়িয়ে পাটের জমিতে জল দিতে হয়। কিন্তু গত কয়েকমাসে এলাকার বহু শ্রমিক কাজের জন্য কেরলসহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে পাড়ি দিয়েছেন। ভালো মজুরি মেলায় তাঁরা সেখানেই কাজ করছেন। ফলে তাঁরা না থাকায় জমির পাট নিড়াতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। বাড়তি টাকা দিয়ে জমির পাট নিড়ানোর জন্য শ্রমিকদের মাঠে নিয়ে যাচ্ছেন পাট চাষিরা।রানিনগরের পাট চাষি রাকিব মন্ডল বলেন, জমি আগাছায় ভর্তি হয়ে গিয়েছে। পাটের জমিতে জল দেব। কিন্তু জমি নিড়ানোর জন্য শ্রমিক পাচ্ছিলাম না। আজ দু›দিন পর দু›জন শ্রমিক পেয়েছি তাও বাড়তি পঞ্চাশ টাকা করে দিতে হচ্ছে আমাদের।সাগরপাড়ার পাট চাষি তাহির শেখ বলেন, একদিকে সবার জমিতেই একসঙ্গে নিড়ানোর দরকার অন্যদিকে বেশিরভাগ শ্রমিক বাইরের রাজ্যে কাজে গিয়েছেন। ফলে শ্রমিক পেতে সমস্যা হচ্ছে।কেরলে কাজ করা ধুলাউড়ির শ্রমিক হাসান শেখ বলেন, কয়েক মাস আগে শীতের দিকে তেমন কাজ পাচ্ছিলাম না। কাজের জন্য কেরলে এসেছিলাম। কাজের জন্য এখানে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। বরং ওখানে ৩০০ টাকা করে মজুরি পেতাম। আর এখানে রাজমিস্ত্রীর শ্রমিকের কাজ করি, ৯০০ টাকা করে পাই। এখন যাব না, ভাবছি একবছর পরেই বাড়ি ফিরব।