সংবাদদাতা, বহরমপুর: তিল চাষের মরসুমে প্রায় পাঁচদফায় বৃষ্টি হওয়ায় তিলের ফলন কমবে বলেই আশঙ্কা করছেন জেলার চাষিরা। তিল চাষে এবার সেভাবে লাভ হবেনা বলেই চাষিরা মনে করছেন। তিল চাষিদের দাবি, তিল চাষে মাত্র একবার জলসেচের প্রয়োজন হয়। এবার চাষের মরসুমে প্রায় পাঁচ দফায় বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে গাছের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। গাছের বৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ফলনে তার প্রভাব পড়বে। একইসঙ্গে গাছ বড় হওয়ায় সামান্য ঝড়ে গাছ উপড়ে যাওয়ার বা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
স্বল্প খরচায় তিল চাষ বেশ লাভজনক। জমিতে দু’বার চাষ দিয়ে বীজ ছড়ানো হয়। বিঘা প্রতি খরচ হয় মাত্র এক হাজার টাকা। এরপর একবার জলসেচ দেওয়া যেতে পারে। কাটতে এবং ঝাড়াতে বিঘা প্রতি শ্রমিকের মজুরিতে হাজার দুয়েক টাকা খরচ হয়। সাকুল্যে তিল চাষে বিঘা প্রতি তিন হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘা প্রতি অন্তত দুই কুইন্টাল হারে তিল পাওয়া যায়। ভালো ফলন হলে সর্বাধিক আড়াই কুইন্টাল পর্যন্ত ফলন হয়। এখন বাজারে তিলের দাম কেজি প্রতি ৪৭-৫০ টাকা। ফলে হিসেব অনুয়ায়ী তিল চাষে বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর মুর্শিদাবাদ জেলায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে তিল চাষ হতো। ২০২৩ সালে তিন চাষে ব্যাপক লাভ হয়েছিল। তূলনায় পাট চাষে সেভাবে লাভ করতে পারেননি চাষিরা। আর তার জেরেই পরের বছর প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছিল। এবারও তার আশপাশে তিল চাষ হয়েছে। গাছে ভালো ফুলও আসতে শুরু করেছিল।
কিন্তু ঘনঘন বৃষ্টি চাষিদের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। বৃষ্টির জলে অতিরিক্ত হারে ফুলেফেঁপে উঠেছে গাছ। তার তাতেই চাষিদের মনে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। গাছে ফল ধরার সময় কালবৈশাখী ঝড় তিল চাষিদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।
বড়ঞা ব্লকের গোপালনগরের চাষি সুব্রত ঘোষ নিজের চারবিঘা জমিতে তিল চাষ করেছেন। সুব্রতবাবু বলেন, গাছ বেরনোর পর থেকে এখনও পর্যন্ত পাঁচ দফায় বৃষ্টি হয়েছে। জমিতে জল না জমায় গাছের ক্ষতি হয়নি। তবে অতিরিক্ত হারে গাছের বৃদ্ধি হয়েছে।
পূর্ব অভিজ্ঞতায় জানি, গাছ বড় হলে ফলন কম হবে। বহরমপুর ব্লকের গজধরপাড়ার বাসিন্দা রাসিদুল মল্লিক বলেন, গত বছর তিলে ভালো লাভ হয়েছিল। এবার সেভাবে লাভ করতে পারব না। তবে চাষে খরচ যেহেতু কম তাই ঝড়ে ক্ষতি না হলে লোকসানও হবেনা।