সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ভাঙতে শুরু করেছে তিস্তার পাড়। নিজেদের জমি বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ময়নাগুড়ির বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মরিচবাড়ি এলাকার কৃষকরা। বাঁশ সংগ্রহ করে কৃষকরা একত্রিত হয়ে নিজেদের ফসল বাঁচাতে পাড় বাঁধাইয়ের কাজে হাত লাগালেন। কৃষকদের অভিযোগ, সাত দিন ধরে তিস্তার পাড় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা যে ফসল চাষ করেছিলেন সেগুলি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসন কিছু একটা ব্যবস্থা করুক।
৫ অক্টোবর ময়নাগুড়িতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় তিস্তার পাড়ে প্রচুর কৃষকের জমির ধান নষ্ট হয়ে যায়। বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার পর এবার তাঁরা ঋণ করে আলু, পটল, ক্যাপসিকাম, লঙ্কা সহ নানা ফসলের চাষ শুরু করেছেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও তাঁদের মাথায় হাত। কারণ ফসল সহ কৃষি জমির অংশ ভেঙে পড়ছে নদীগর্ভে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে নিজেরাই পাড় বাঁধাইয়ের কাজ শুরু করেন।
কৃষক সুনীল সরকার বলেন, ৫০ বছর ধরে আমরা মরিচবাড়ি তিস্তার চর এলাকায় চাষ করে চলেছি। এবার আমাদের সর্বস্বান্ত হতে হল। ধান চাষ করেছিলাম কিন্তু সেটাও কিছুদিন আগে বন্যা পরিস্থিতির কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ঋণ করে সবজি চাষ শুরু করেছি। সেটাও নদীগর্ভে যেতে বসেছে। এখানে কয়েক হাজার কৃষক চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
অপর কৃষক বিমল মল্লিক বলেন, আমি করলা চাষ করেছি। প্রতিনিয়ত ভাঙনে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। কৃষক গোবিন্দ কীর্তনীয়া বলেন, আমার পাঁচ বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। কী করব এখন বুঝে উঠতে পারছি না। সেই জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। সবটাই ঋণ করে। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ বিশ্বাস বলেন, নিজেদের জমি তো বাঁচাতে হবে। সে কারণেই আমরা প্রত্যেক কৃষকরা একত্রিত হয়ে নদীর পাড় ভাঙন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছি। বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, গ্রামবাসীদের বিষয়টি আমি ইরিগেশন দপ্তরকে জানিয়েছি।
সেচদপ্তরের ময়নাগুড়ি ব্লক আধিকারিক দেবাশিস মুস্তাফী বলেন, ওই এলাকার খবর আমরা পেয়েছি। আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নিজস্ব চিত্র।