Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মান্ডিতে ধান বিক্রিতেও চাষিদের দিতে হচ্ছে টাকা, তদন্তের আশ্বাস বিডিও’র

ধান বিক্রি করতে গিয়েও দিতে হচ্ছে টাকা। লোডিং ও আনলোডিংয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

মান্ডিতে ধান বিক্রিতেও চাষিদের দিতে হচ্ছে টাকা, তদন্তের আশ্বাস বিডিও’র
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: ধান বিক্রি করতে গিয়েও দিতে হচ্ছে টাকা। লোডিং ও আনলোডিংয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে সাধারণ চাষিদের ধান বিক্রি করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলরামপুর কিষান মান্ডিতে। টাকা গুনতে না পারলে ধান ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রশাসনের কানে গিয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি মিল কর্তৃপক্ষকেও সর্তকও করেছেন বলরামপুরের বিডিও। এনিয়ে বলরামপুরজুড়ে ব্যাপক হইচই শুরু হয়েছে। যদিও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাইস মিলের কর্মীরা।

Advertisement

বলরামপুরের বিডিও সৌগত চৌধুরী বলেন, চাষিদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। যে শ্রমিকরা সেখানে কাজ করেন, তাঁদের মজুরি মিল কর্তৃপক্ষের দেওয়ার কথা। অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে এবিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে তদন্ত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
বিডিও আরও বলেন, ধানের গুণগত মান পরীক্ষা করে সর্বাধিক কুইন্টাল পিছু ৩ কেজি কেটে রাখার সিদ্ধান্ত জেলা থেকেই হয়েছে। তবে গুণগতমান ঠিক থাকলে সব চাষির থেকে তা কেটে রাখার কোনও নিয়ম নেই। চাষিদের অভিযোগ পেলে ফের কিষান মান্ডিতে গিয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
বলরামপুর কিষান মান্ডিতে নিত্যদিন চাষিদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। তেঁতল গ্রামের চাষি সৌমিত্র কুমার বলেন, লোডিং এবং আনলোডিংয়ের জন্য ৬০০ টাকা নেওয়া হয়। ওই টাকা না দিলে ধান নেওয়া হবে না। বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। টাকা দিলে ধান খারাপ থাকলেও তা নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 
চাষি নকুল কুমার বলেন, প্রতি কুইন্টাল ৩ কেজি করে ধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভালো ধান থাকলেও বাদ দেওয়া হচ্ছে। লোডিং ও আনলোডিংয়ের নামে টাকা নেওয়া হচ্ছে। সবার কাছেই নেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক বলার পর কমিয়ে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
কিষান মান্ডির চাষিদের অভিযোগ পেয়ে বুধবারই সেখানে গিয়েছিলেন বলরামপুরের বিজেপি বিধায়ক বাণেশ্বর মাহাত। তিনি বলেন, ধান বিক্রি করতে গিয়েও চাষিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কার্যত দালাল রাজ চলছে। চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে আন্দোলন করা হবে। চাষিরা সকালে ধান এনেও বিক্রি করতে পারছেন না। অথচ ফড়েরা আগে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। 
রা‌ইস মিলের কর্মী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। টাকা নেওয়া হলে প্রমাণ দেওয়া হোক। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কে কোন লেবারকে টাকা দেবে, সেটা আমরা কী করে জানব? 
তবে শুধু বলরামপুর নয়, অন্যান্য জায়গাতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কোথাও চাষিরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনলাইনে ধান বিক্রির কাগজ করাতে পারছেন না। একাধিক জায়গায় রাতেই ফড়েদের একাংশ অনলাইনে টোকেন কেটে রাখছে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে খারাপ ভালো সব ধানের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কুইন্টাল পিছু ধান কেটে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে চাষিরা ক্ষুব্ধ। সরকারিভাবে ভালো ধানের দাম পাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা ধান বিক্রি করতে পারছেন না। হয়রানির জেরে বাধ্য হয়ে অনেকেই ফড়েদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।  প্রতীকী ছবি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ